ঈদে নিরাপত্তা ও ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি পৃথক ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ঈদের সাত দিনের ছুটিতে জনজীবন স্বস্তিদায়ক করতে মন্ত্রীদের মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, ঈদ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাজার ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এসব বিষয় নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রীদের তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানান, সরকার ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মন্ত্রিসভা স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চলমান এবং আগের সকল ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে একটি 'স্পেশাল ড্রাইভ' বা বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: দেশীয় প্রযুক্তিতে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমাজ থেকে ধর্ষণ প্রবণতা নির্মূলে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকল এজেন্সির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় বিদ্যমান দ্রুত বিচার আদালতগুলোকে আরও কার্যকর করার নির্দেশনাও এসেছে এই বৈঠক থেকে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হয়ে যাওয়া ফ্ল্যাশ ফ্লাড (আকস্মিক বন্যা), শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি, খাদ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া বৈঠকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনীত পরিবর্তনসমূহ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে, যা পাসের জন্য সংসদে পাঠানো হবে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। বর্তমান সরকার তাদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আজকের বৈঠকে সেই লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি এবং জননিরাপত্তার বিষয়গুলোই প্রধান্য পেয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








