News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ৯ মার্চ ২০২৬

নিরাপত্তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানের ৪ ফ্লাইট স্থগিত

নিরাপত্তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানের ৪ ফ্লাইট স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং ওই অঞ্চলের আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম- এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। 

সোমবার (০৯ মার্চ) বিমানের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইটগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। এছাড়া দুবাই ও আবুধাবি রুটের ফ্লাইটগুলো আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে এই দুটি রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

সংস্থাটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো হালনাগাদ তথ্যের জন্য যাত্রীদের বিমানের কল সেন্টারে (অভ্যন্তরীণ: ১৩৬৩৬, আন্তর্জাতিক: +৮৮০৯৬১০৯১৩৬৩৬) যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে কেবল বিমান বাংলাদেশ নয়, বরং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামগ্রিক ফ্লাইট পরিচালনা ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্কতা জারি থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটে ফ্লাইট বাতিল করলো বিমান

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১১ দিনে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রবিবারই (০৮ মার্চ) ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইউএস-বাংলা, জাজিরা এয়ারওয়েজ ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের মতো বড় সব নাম রয়েছে। ১ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪৬টি করে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার (০৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। 

সাক্ষাৎ শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধাবস্থার মাঝেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ইতিমধ্যে জেদ্দা ও মদিনাসহ চারটি রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করা হয়েছে এবং দুবাই রুটটি চালুর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী বিমানকে সম্পূর্ণ নতুন করে ঢেলে সাজানোর এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে উন্নত সেবা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে স্ক্যানার মেশিনের সংখ্যা বাড়িয়ে তিনটি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। অতীতের অনিয়ম কাটিয়ে আইন মেনে বিমানকে একটি শক্তিশালী ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে ফেরানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আকাশপথে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই জরুরি অবস্থা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়