News Bangladesh

স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ৮ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি সাশ্রয়ে স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্বালানি সাশ্রয়ে স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঐতিহ্যগত আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের বিষয়েও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা ও জনজীবনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হলেও এ বছর জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে তা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ফুয়েল ক্রাইসিস এড়ানো এবং কৃচ্ছতা সাধন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।’’

আরও পড়ুন: ‘গুম করেও অনুশোচনা নেই, ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছেন শেখ হাসিনা’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস যথারীতি ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে। এ আয়োজনের প্রধান দায়িত্বে থাকবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এতে ভূমিকা রাখবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। এ সময় সেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধ এলাকায় যাতায়াত সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ বা শিল্পাঞ্চলে সম্ভাব্য সমস্যা মোকাবিলায় সরকার একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শ্রমিক ও মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় করবেন— যাতে ঈদের আগে কোনও ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়।

পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন–ভাতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। তবে কোনও প্রতিষ্ঠানে সমস্যা থাকলে, তা আগেভাগেই সরকারকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’’

সাম্প্রতিক ‘মব’ বা গণপিটুনির ঘটনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মব এবং স্পট ক্রাইম এক বিষয় নয়। সব ঘটনাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলে সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে না।’’ উদাহরণ হিসেবে তিনি নরসিংদীর একটি হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘সেখানে প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে তদন্তে দেখা যায়, হত্যার সঙ্গে ভুক্তভোগীর সৎ বাবা জড়িত। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে হেফাজতে রাখা হয়েছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সরকার মব কালচারের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের প্রবণতা এক সময় বিলুপ্ত হবে।’’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়