লাইফস্টাইল ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৬:০১, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটছে? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটছে? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

প্রতীকী ছবি

শীত এখনো আসেনি। এর আগেই অনেকের ঠোঁট ফাটা, শুকিয়ে যাওয়া ও চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সাধারণত ঠোঁট ফাটার সমস্যা শীতকালের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হলেও, শুধু শীত নয় আবহাওয়ার পরিবর্তন, শরীরে পানির ঘাটতি, ভুল প্রসাধনীর ব্যবহারসহ নানা কারণে ঠোঁট ফাটতে পারে।

ঠোঁট কেন ফাটে?
মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক অনেক পাতলা। এতে ত্বকের মতো তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি নেই। ফলে ঠোঁট সহজেই স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। এতে ঠোঁট শুকিয়ে যায়, ফাটল দেখা দেয় এবং কখনো কখনো চামড়াও উঠতে থাকে।

শীতের আগেই কেন ফাটছে ঠোঁট?
আবহাওয়ার পরিবর্তন: আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং শুষ্ক বাতাসের কারণে ঠোঁট দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। ফলে ঠোঁট শুকিয়ে ফেটে যেতে পারে।

বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো: অনেকের শুকনো ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে ভেজানোর অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু লালা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এতে ঠোঁট ফাটার সমস্যা বাড়তে পারে।

পানির ঘাটতি ও প্রসাধনীর প্রতিক্রিয়া: শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া সুগন্ধিযুক্ত লিপস্টিক, টুথপেস্ট বা লিপবামের কিছু উপাদান ঠোঁটে জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি ও সংক্রমণ: শরীরে আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলেও ঠোঁটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া একজিমা বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে ঠোঁটের কোণে ক্ষত ও ফাটল হতে পারে।

ঠোঁট ফাটা রোধে করণীয়
ঠোঁটের শুষ্কতা ও ফাটল কমাতে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি।

লিপবাম ব্যবহার করুন: সুগন্ধি ও স্বাদবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি বা উপযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার এবং ঘুমানোর আগে লাগাতে পারেন।

জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো বন্ধ করুন: এ অভ্যাস ঠোঁটের শুষ্কতা বাড়াতে পারে।

মরা চামড়া টেনে তুলবেন না: এতে ঠোঁটে ক্ষত ও রক্তপাত হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরে পানির ঘাটতি এড়াতে নিয়মিত পানি পান করুন।

আরও পড়ুন: বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কতটা ঝুঁকির!

রোদ থেকে সুরক্ষা নিন: বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সান প্রোটেকশনযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন।

জ্বালাপোড়া তৈরি করে এমন প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি বা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহারে ঠোঁটে অস্বস্তি হলে সেই পণ্য ব্যবহার বন্ধ করুন।

শীতের অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি। তবে নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁট না সারলে, বারবার ফেটে রক্তপাত হলে কিংবা ঠোঁটের কোণে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়