ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাজ, নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেরুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
সকাল থেকে সন্ধ্যা অনেকেরই কেটে যায় একটানা চেয়ারে বসে কাজ করে। বাইরের কাজের তুলনায় ডেস্ক জব অনেকের কাছেই আরামদায়ক মনে হলেও গবেষণা বলছে, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা মেরুদণ্ডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এর ফলে শিরদাঁড়া, কোমর, ঘাড় ও পিঠের ব্যথাসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ছয় ঘণ্টার বেশি একটানা বসে থাকার ফলে ঘাড় ও শিরদাঁড়ার ব্যথার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। দিনে চার ঘণ্টা বসে কাজ করলে ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আর ছয় ঘণ্টার বেশি বসে কাজ করলে এই ঝুঁকি প্রায় ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, চার ঘণ্টার বেশি সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে নিচের কোমরের পেশি (লম্বার মাসল) ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যেতে শুরু করে। এর ফলেই পরে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের চাকরিতে সারাদিন বসে কাজ করতে হয়, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে কোমর ও ঘাড়ের ব্যথায় ভোগার প্রবণতা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিপরীতে, যারা কাজের ফাঁকে ফাঁকে উঠে দাঁড়ান বা কিছুক্ষণ হাঁটেন, তাদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা অনেক কম।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অন্তর কয়েক মিনিট হাঁটা, পিঠ ও ঘাড় সোজা রেখে বসা এবং মাঝেমধ্যে হালকা স্ট্রেচিং করলে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কতটা মারাত্মক হতে পারে এই সমস্যা?
স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্যে জানা যায়, দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এতে নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক কমে যেতে পারে।
এছাড়া ডিস্ক বাল্জ বা ডিস্ক হার্নিয়েশনের ঝুঁকিও বাড়ে। এ অবস্থায় মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার মাঝখানে থাকা নরম ডিস্ক তার স্থানচ্যুত হয়ে পাশের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে পিঠ বা ঘাড়ে তীব্র ব্যথা, ঝিনঝিনে ভাব কিংবা অসাড়তা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পেশি ও লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: শীতে বারবার প্রস্রাব, কখন সতর্ক হওয়া উচিত?
চিকিৎসকদের মতে, এসব সমস্যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই বসে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে উঠে দাঁড়ানো, কিছুক্ষণ হাঁটা এবং চেয়ারে বসেই হালকা ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। এতে মেরুদণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








