News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:১৫, ১৬ মার্চ ২০২৬

নেতিবাচক খবর ছড়ালে লাইসেন্স বাতিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি

নেতিবাচক খবর ছড়ালে লাইসেন্স বাতিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের  ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রূপ নিচ্ছে। হোয়াইট হাউস সম্প্রচারিত সংবাদ যদি যুদ্ধের বিষয়ে নেতিবাচক বা সমালোচনামূলক হয়, তবে সেই সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, সম্প্রচারকারী মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই ‘জনস্বার্থে’ কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে জানান, যারা ভুয়া খবর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবে, তাদের লাইসেন্স নবায়নের সময় কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

কারের এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের ওপর সরাসরি চাপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর আগে কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেলের শো নিয়ে এবিসি চ্যানেলকে দেওয়া হুমকি এবং পরবর্তীতে শো সাময়িক বন্ধ হওয়ার ঘটনাও এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি সৌদিতে ইরানি হামলায় মার্কিন তেলের বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি দাবি করেন, মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘বাজে মিডিয়া’ চায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক।

অন্যদিকে প্রশাসনের নীতি নির্ধারকরা সংবাদমাধ্যমকে ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের যুদ্ধের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন এবং বলেছেন, গণমাধ্যমের উচিত ইরানের ‘দুর্বলতা’র খবর প্রচার করা, যুদ্ধের ভয়াবহতার নয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা। হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শাটজ একে সরাসরি সেন্সরশিপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি পরিষ্কার বার্তা, হয় সরকারের গুণগান গাও, নয়তো বন্ধ হয়ে যাও।”

ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার)-এর অ্যারন টের বলেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সরকার যুদ্ধের কোনো তথ্য সেন্সর করতে পারে না।

ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধে জয়ের দাবি করলেও কুইনিপিয়াকের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধী। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধকে বিনা উস্কানিতে আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আরও পড়ুন: অবরুদ্ধ হরমুজ: ট্রাম্পের ডাকে সাড়া নেই মিত্রদের

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর অব্যাহত হামলার মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সব ঠিক আছে’ দাবি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধের মাঠ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দুই ফ্রন্টেই এখন উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়