ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত, কিন্তু সুস্থ
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে এক ভয়াবহ হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর, তার দ্বিতীয় সন্তান মোজতবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে এবং সরকারের উপদেষ্টা ইউসেফ পেজেশকিয়ান নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এমন খবর পাওয়ার পর তিনি তার সংস্পর্শে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তাকে জানিয়েছেন, “আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও ভালো আছেন।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও এর আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তবে তার আঘাতের ধরন বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম তাকে “রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা” হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
নতুন এই সর্বোচ্চ নেতাকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ফলে তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই সরকারের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ব্যাখ্যা সামনে এলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি ও দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হন। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন এবং বর্তমানে সীমিত যোগাযোগের সুযোগ থাকা একটি অত্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: দুবাই বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশিসহ আহত ৪
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য মেয়ে, নাতি ও জামাইসহ একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই তার দ্বিতীয় সন্তান মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গত রবিবার (০১ মার্চ) ইরানের ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ভোটের মাধ্যমে তাকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি কখনও সরাসরি কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি কিংবা নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে তার বাবা সুপ্রিম লিডার থাকা অবস্থায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা ছিল। বিশেষ করে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বহুবার সামনে এসেছে।
তবে নিজে কখনও প্রকাশ্যে সুপ্রিম লিডার হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেননি তিনি। বাবার বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে বহুদিন ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
এদিকে, মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া নতুন এই নেতা “বেশিদিন টিকবেন না”।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, টিআরটি ওয়ার্ল্ড
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








