News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:০১, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ফাঁসাতে শাহেদের নকল ‘লুকাস’ ড্রোনের ব্যবহার

ইরানকে ফাঁসাতে শাহেদের নকল ‘লুকাস’ ড্রোনের ব্যবহার

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছাপিয়ে এবার সামনে এলো চাঞ্চল্যকর এক ‘ছদ্মবেশী’ হামলার অভিযোগ। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের তৈরি বিখ্যাত ‘শাহেদ’ ড্রোনের হুবহু নকল ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যার মূল লক্ষ্য হলো দায়ভার তেহরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। 

ইরানের সামরিক কমান্ডের উচ্চপর্যায় থেকে আসা এই অভিযোগ অঞ্চলটিতে চলমান অস্থিরতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে ‘লুকাস’ (Lucas) নামক এক বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করছে। এই ড্রোনের গঠন ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি শাহেদ ড্রোনের হুবহু প্রতিরূপ। 

ইরানি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এই ‘নকল’ ড্রোনগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে বিশ্ববাসীর কাছে একে ইরানের কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। একে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে এক সুদূরপ্রসারী ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের মতো ইরানের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় যে বর্বরোচিত হামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো আসলে এই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

আরও পড়ুন: ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলা

তেহরানের দাবি, এসব হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দুটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিল করতে চায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব আবিব। প্রথমত, ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘প্রতিরক্ষামূলক, আইনি এবং বৈধ’ পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক মহলে খাটো করা এবং দ্বিতীয়ত, তেহরানের সাথে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কে ফাটল ধরানো।

ইরানি সামরিক কমান্ড এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছ। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান যখনই কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, তার দায়ভার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এবং সাহসের সাথে স্বীকার করে। অন্য কোনো পক্ষের করা হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 

ইরান আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, তাদের সামরিক বাহিনী কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকেই তাদের অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে এবং কোনো বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের ক্ষতি করা তাদের নীতির পরিপন্থী।

গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ড্রোন হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। যদিও দেশগুলো এখনো সরাসরি কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি, তবে ইরানের এই নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ছদ্মবেশী হামলার এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়