News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:০৭, ১৪ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১১:০৫, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলা

ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ১৪তম দিনে এসে ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে এ হামলার কথা নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বীপটির আকার ছোট হওয়ায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তেল রপ্তানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা প্রায় অসম্ভব।

শনিবার (১৪ মার্চ) আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হিরস আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, খারগ দ্বীপ খুবই ছোট। সেখানে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তেল রপ্তানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্পের দাবি বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না। জেপি মরগান-এর এক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের এই দ্বীপে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ২৭ ফেব্রুয়ারির ৭২.৪৮ ডলার থেকে বেড়ে ১০৩.১৪ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।

অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও সংঘাত শুরুর পর থেকে ৪৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৮.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই হামলার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একই সঙ্গে ইরাক ও কুয়েতের উৎপাদন বা রপ্তানিতেও বিঘ্ন ঘটে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিহাসের নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।

এড হিরসের মতে, তেলের দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার দেশগুলো, কারণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানির সবচেয়ে বড় আমদানিকারক অঞ্চল হচ্ছে এশিয়া। ফলে এসব দেশে মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খারগ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছবি শেয়ারে জেল-জরিমানা ও নির্বাসনের হুঁশিয়ারি

তিনি আরও বলেন, এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এদিকে হামলার পর তেহরান-এ জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার রাতেই ইরানে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়