মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছবি শেয়ারে জেল-জরিমানা ও নির্বাসনের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে স্পর্শকাতর ছবি, ভিডিও বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলের একাধিক দেশ।
ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা সামরিক কার্যক্রমের দৃশ্য ধারণ ও প্রচার করলে কারাদণ্ড, মোটা অংকের জরিমানা এমনকি দেশান্তরের (নির্বাসন) মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র ক্ষয়ক্ষতির ছবি নয়, সরকারি ভবন ও কূটনৈতিক মিশনের ছবি তোলা, শেয়ার বা পোস্ট করার বিষয়েও কঠোরভাবে নজরদারি করছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকরা দেশটির আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় এবং আইন লঙ্ঘনের ফলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা নির্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি দুবাইতে ৬০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিক শহরের উপর দিয়ে যাওয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি তোলার অভিযোগে সাইবার-অপরাধ আইনে অভিযুক্ত হয়েছেন। এ ধরনের নজরদারি এবং আইনি ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তীব্র উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: দুই দফায় হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি
ব্রিটিশ দূতাবাসের সতর্কতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশও অনলাইনে উস্কানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভিডিও ধারণ এবং ইরানপন্থী পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে একজন বাংলাদেশিসহ ছয় প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে।
একইভাবে, কাতারে ইরানি হামলার ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৩১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। কুয়েতে গত ৭ মার্চ দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিও তৈরির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি সৌদি আরবও অনির্ভরযোগ্য তথ্য পুনরায় প্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে আকস্মিকভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইরান কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি এসব দেশের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোতেও একাধিক দফা হামলা ঘটেছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অনলাইনে প্রচারিত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ন্ত্রণে জোরদার নজরদারি চালাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








