সৌদিতে ড্রোন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের রেশ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
রবিবার (০৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড় ৬টা পর্যন্ত সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় এই হামলা চালানো হয়।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের পূর্ব দিকে অন্তত সাতটি ইরানি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগে আরও আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার ফলে কোনো বেসামরিক প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আকাশসীমায় একের পর এক ড্রোন আক্রমণ সত্ত্বেও সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত শনিবার ঘোষণা করেছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ব্যবহার করে যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা না চালায়, তারা পাল্টা হামলা চালাবে না। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ভূখণ্ডে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর ইরান সৌদি আরবসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পুনরায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ ভূমিকম্পে কাঁপলো যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান তাদের দিকে মোট ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ১০টি ছিল ব্যালিস্টিক এবং ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। কুয়েতে একটি পাবলিক ইনস্টিটিউশন ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা একাধিক আকাশ হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান তাদের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা প্রতিহত করার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধরা পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালাচ্ছে।
পূর্বে সতর্ক করা হয়েছিল যে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে, তাদেরও সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে, তবে সংঘাতের তীব্রতা ক্রমবর্ধমান।
সূত্র: আলজাজিরা
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








