নিহত শামীম পীরের এলাকা ঘুরে এসে যা জানালেন মেঘমল্লার বসু
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
নিহত শামীম পীরের গ্রামের পরিস্থিতি ঘুরে দেখে ফিরে এসে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি ও বামপন্থী ছাত্রনেতা মেঘমল্লার বসু। তার বর্ণনায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সামাজিক-রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং স্থানীয় জনমানসের ভেতরের ভয় ও বিভক্ত অবস্থার একটি জটিল চিত্র উঠে এসেছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে এনিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার পোস্ট নিউজবাংলাদেশ-এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
''পুলিশের যাবতীয় প্রয়াস নিয়োজিত ছিল শামীমের দেহ কবরস্থানে দাফন করায়। বাবা শামীমের নিজের ভিটায় তাঁর কবর হলে জায়গাটি মুরিদদের সমাগমের জায়গায় পরিণত হবে। তাই যেকোনো মূল্যে কবরস্থানেই তাকে দাফন করানোটাই প্রশাসনের প্রধান মাথাব্যথা ছিল। শামীমের মুরিদরা দু একজন ভিন্নমত জানালেও তারা খুবই ভালনারেবল হালতে ছিল৷ তাদের কথা কেউ গা করেনি৷ পীর শামীমের ভাইরাও নাকি লাশ গোরস্থানে দাফন করার পক্ষে বলেছেন। যেকোনো ফর্মে মাজারটার নিকেশ ঘটানোর একটা কালেক্টিভ পাঁয়তারা খুব সহজেই দেখা যাচ্ছিল। খুবই ইন্টারেস্টিংলি, যার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তার লাশ এলাকার গোরস্তানে দাফন হওয়া নিয়ে আবার কারও ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগেনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাবা শামীমের পরিবারের কেউ মামলা করছেন না। এলাকার যে ভয়ার্ত পরিস্থিতি তাতে এটা অস্বাভাবিকও না। হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে দিয়েই ঘোরাঘুরি করছে। কেউ কেউ মিডিয়াতেও বারবার করে বয়ান দিয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যাপারটা খুবই ধূর্ততার সাথে করা বা করানো হচ্ছে। মিডিয়ার সামনে তারা 'সাধারণ জনতা' রোল প্লে করে বুঝাচ্ছে সাধারণ গ্রামবাসী অনেক আগে থেকেই শামীমের উপর ক্ষিপ্ত। অথচ এই লোকগুলা নিউট্রাল অবজার্ভার নন মোটেও। এরাই ফেসবুকে এই হত্যাকাণ্ডের যুক্তি ও পরিস্থিতি নির্মাণ করেছেন। সবার আগে যাদের গ্রেফতার হওয়ার কথা তারাই প্রকাশ্যে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। আজ আমার সাথেও একটা মব হইতে পারত। আমি বা অনিক দা কেউই ঝগড়ার ট্র্যাপটায় পড়ি নাই দেখে ঘটনা আগায় নাই।
গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে শামীমকে নিয়ে মিশ্র অভিমত আছে৷ যারা তার অনুরাগী তারা আছে সবচেয়ে আতংকে। কেউ কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। যারা পীর শামীমের নানা কার্যক্রমকে নেতিবাচকভাবে দেখতেন তারাও আতংকগ্রস্ত হয়ে আছেন। একজন বলতেসিলেন যে প্রশাসন তো সব জানতই। এরা যে শামীমকে মারার পরিকল্পনা করতে মিটিং করতেসিল এটা কি প্রশাসন জানত না। সব কিছুই দিনের আলোয় হইসে। আমরাও তো কিছু ঠেকাইতে পারলাম না।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ডাইমেনশান হল, পীর শামীমের মুরিদরা প্রচুর অর্থ এই মাজারে দান করত। এই টাকাটা আগে এলাকার ছেলেপেলের হাতেই আসত, তারাই টাকাটা দরবারের নানা কাজে লাগাত। কিন্তু এখানে অর্থ তছরুফ হচ্ছে বুঝে কয়েক বছর আগে শামীম টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিজ হাতে নিয়ে নেন। এরপর থেকে এলাকার ছেলেপেলেদের সাথে একটা বৈরী সম্পর্ক মাজারের তৈরি হয়।
শামীম পীরের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি কাঁদতে দেখেছি এলাকার নারীদের। বোঝা যায়, এখানে নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রচুর মানুষের তার প্রতি একটা অর্গানিক মহব্বতও ছিল। এই ভয়ের আবহের মধ্যেও এক লোক বলতেসিলেন "পক্ষ তো শেষ পর্যন্ত দুইটাই। কেউ এজিদি, কেউ হুসেইনি। সব সময় তো ইতিহাসে এইসবই হইসে।"
আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন: রয়টার্স
এই ইস্যুতে কোনো ছাড় দিলে ভবিষ্যতে আমাদের জঙ্গীদের পদানত হয়ে জীবন যাপন করতে হবে। সেই জীবন চান কি না সেই বিবেচনা আপনাদের।''
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








