News Bangladesh

স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:১৫, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বেচ্ছায় ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন ফাতেমা বেগম

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বেচ্ছায় ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন ফাতেমা বেগম

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তার সঙ্গী ছিলেন ফাতেমা বেগম।

২০১০ সাল থেকে ফাতেমা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। প্রথমে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে পরে বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ফাতেমার খালেদার প্রতি অগাধ মমত্ববোধ রয়েছে।

তিনি সবসময় খালেদার পাশে থাকতেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য কাজও করতেন।

ফাতেমা বেগমের গ্রাম ভোলায়, এবং ২০১০ সাল থেকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় তিনি কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি খালেদার স্থায়ী সঙ্গী হয়ে উঠেন।

আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি যখন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়, তখন আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফাতেমাকে যেন সঙ্গে রাখতে অনুমতি দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর ছয় দিন পর ফাতেমাও সেখানে যান। মোট ২৫ মাস তিনি খালেদার সাথে কারাগারে স্বেচ্ছায় সংসর্গে ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিপক্ষে আন্দোলনের সময়ও ফাতেমার উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়, খালেদা জিয়ার পাশেও দাঁড়িয়ে ছিলেন ফাতেমা।

২০১৫ সালের শুরুতে ৯২ দিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানের সময়ও তিনি ছিলেন খালেদার সঙ্গে।

৪০ বছর বয়সী ফাতেমা একজন সন্তানের মাতা। তিনি মা-বাবার সঙ্গে রাজধানী শাহজাহানপুরে বাস করতেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফাতেমা মূলত বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতার মাধ্যমে ‘ফিরোজা’য় কাজ শুরু করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেড় দশকের এ সহাবস্থানের কাহিনী শুধুমাত্র একটি চাকরি নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মানবিক অধ্যায়ের প্রকাশ।

এর আগে ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়