টেকনাফে বনভূমি দখলে নিতে মরিয়া আ.লীগ নেতা ও বদির ঘনিষ্ট কালু
বনের কাঠপাচার করে হঠাৎ কোটিপতি
সাবেক আ.লীগ এমপি মাদকসম্রাট খ্যাত বদির সঙ্গে ও দেশীয় অস্ত্র হাতে কালু। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুরানপাড়ায় বনভূমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শফিউল কাদের কালু। তিনি স্থানীয় মৃত আব্দুল হকের ছেলে।
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মাদক সম্রাট আব্দুর রহমান বদির ক্যাশিয়ার খ্যাত শফিউল কাদের এলাকায় পরিচিতগাছকালুনামে। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কালু মেম্বার এবং ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি।
আওয়ামী লীগ পতনের পর গ্রেফতার এড়াতে শফিউল কাদের কালু গা ঢাকা দিলেও পুলিশের জালে ঠিকই আটকা পড়েন। বেশ কিছুদিন জেল খেটে পরে বের হয়ে শুরু করেন বনভূমি দখল ও নানা অপকর্ম।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে শফিউল কাদের কালু মাদকের কালো টাকা ব্যবহার করে মেম্বার হন। পরে আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির ছত্রছায়ায় কালু মেম্বার রাতারাতি বনে যান কোটিপতি।
জানা যায়, একসময় পাহাড় থেকে গাছ কেটে ও সাগরে পোনা শিকার করে দিনাতিপাত করতেন কালু। কিন্তু এরপর হঠাৎ করে রাতের আধারেই মাদক সম্রাট বদি ও তালিকাভূক্ত মাদক কারবারি আজিজ উদ্দিনের ছত্রছায়ায় হয়ে উঠেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শফিউল কাদের কালু শ্রমিক লীগ ও বদির প্রভাব খাটিয়ে ২০১৯ সালে পেশিশক্তি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দখল করে নেন বিশাল বনভূমি। শ্রমিক লীগ ও বদির প্রভাবের কারণে বনবিভাগ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
২০২৫ সালের দিকে কালুর দখলকৃত বনভূমি স্থানীয় বনবিভাগ দখলমুক্ত করে চারা রোপন করে। এতে কালু ক্ষুব্ধ হয়ে বনভূমিতে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ফেলে এবং পুনরায় জবর দখল করে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে বিচারক সংকটে বাড়ছে মামলাজট, ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থী
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১ জুন হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ে কালু মেম্বারকে কে বা কারা গুলি করেছে! কিন্তু তিনি গুলিবিদ্ধ হননি। খবর পেয়ে এসআই হাসানের নেতৃত্বে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তবে ঘটনাস্থলে তারা গুলির কোনো চিহ্ন খুঁজে পাননি বলে জানিয়েছেন এসআই হাসান।
বনভূমি দখল নিয়ে কালু ও ইয়াছিন ডাকাতের মধ্যে দ্বন্ধ
কুদ্দুস এলাকায় মৌলভী কুদ্দুস নামে পরিচিত। তিনি পুরাতন রোহিঙ্গা। দীর্ঘ ১৫ বছর আগে টেকনাফ থেকে শামলাপুর এসে শফিউল কাদের কালুর বোনকে বিয়ে করে। সে হিসেবে তিনি এলাকায় কালু মেম্বারের ভগ্নিপতি হিসেবেও পরিচিত।
কুদ্দুস কিছুদিন কালুর বাড়ির পাশে বসবাস করলেও একসময় তিনি পাহাড়ে বসবাস শুরু করেন। এরমধ্যে কালুর বোন পরকীয়া করে অন্যত্র চলে যায়। কুদ্দুস ও আরেকটা বিয়ে করে বনের জমিতে বসবাস পাকাপোক্ত করেন। কুদ্দুসের ভাইঝি জামাই ইয়াছিন ডাকাত। শামলাপুর পাহাড়ে কুদ্দুসের সাথে থেকে ইয়াছিন ডাকাত অপহরণ, মানবপাচার ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল বলে জানা যায়। তখন পর্যন্ত কালু মেম্বারের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল।
পরে বনভূমির জমির দখল সীমানা নিয়ে শুরু হয় দ্বন্ধ। বনের জমিতেই কালুর ছত্রছায়ায় ছিল ইয়াছিন ডাকাত। বনভূমি দখল নিতে মরিয়া কালু ও ইয়াছিন ডাকাতের দ্বন্ধে কালুর দুই ভাতিজা মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে সাইফুল ও ইবরাহীমের ছেলে রিদুয়ানকে অপহরণ করে ইয়াছিন ডাকাত। পরে আব্দুর ছেলে আরাফাতকেও অপহরণ করে ইয়াছিন ডাকাত। সেই থেকে কালু ও ইয়াছিন ডাকাতের মধ্যে দ্বন্ধ চলে আসছে বলে জানা যায়।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, অপহরণকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইউপি সদস্য কালুকে গুলি করার কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








