News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ১৯ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল নিতে যাচ্ছে ইরান। এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর কর ও শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। মূলত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে এই ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে এক জনসমাবেশে সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিই এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনেন।

সোমায়ে রাফিই জানিয়েছেন, দেশের আইনপ্রণেতারা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে চলাচল করা জাহাজের ওপর কর ও টোল আরোপের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। 

তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানের কর্তৃত্ব প্রসঙ্গে রাফিই বলেন, আমরা আমাদের শত্রুদের আগের সেই আরাম-আয়েশ কেড়ে নিয়েছি, এবং তারা এখন এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না। তারা স্রেফ এটি সহ্য করতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ, এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে ইরানের এক চূড়ান্ত ও নিশ্চিত বিজয়ের মাধ্যমে, এবং এর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত আমাদের শত্রুদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।

আরও পড়ুন: কাতারের গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ৩ দেশ

ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী বিদেশি জাহাজের ওপর কর আরোপের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দেশের সংসদে একটি বিল প্রস্তাবিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে খাবার, তেল বা অন্য যেকোনো পণ্যবাহী জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করলে ইরানকে কর ও শুল্ক প্রদান করতে হবে। ইরানের দাবি, শত্রু দেশ বা তাদের ঘনিষ্ঠদের কোনো জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে গেলে সেটি বন্ধ করা হবে। তবে এখন এই নজরদারি থেকে আয় উৎপন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় জাহাজ ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’ রান্নার গ্যাস বোঝাই করে নিরাপদে গুজরাটের বন্দরে পৌঁছেছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে রয়েছেন আরও ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক, যাদের ফিরিয়ে আনার জন্য দিল্লি তৎপর।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরেও এ যুদ্ধকে ঘিরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে দেশটির সন্ত্রাস দমন শাখার প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইজরায়েলি লবির চাপে অকারণে এই যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে, লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও বুধবার ভোরে ইজরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের বাসস্থানে বোমা পড়েছে।

ইরান সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা এবং হরমুজ প্রণালির উপর শাসন জোরদার করার প্রস্তাব বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়