News Bangladesh

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ১৭ মার্চ ২০২৬

মার্চে আকাশজুড়ে গ্রহ নক্ষত্রের মহাজাগতিক বিস্ময়

মার্চে আকাশজুড়ে গ্রহ নক্ষত্রের মহাজাগতিক বিস্ময়

ছবি: সংগৃহীত

আকাশপ্রেমীদের জন্য চলতি মার্চের শেষার্ধ নিয়ে আসছে এক অনন্য মহাজাগতিক উপহার। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গ্রহদের ‘রাজকীয় কুচকাওয়াজ’ বা প্ল্যানেট প্যারেড এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত আরও নতুন রূপে ধরা দিচ্ছে বাংলাদেশের আকাশে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত খালি চোখে ও টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহের মেলা, চাঁদের লুকোচুরি আর উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জের বিরল সহাবস্থান দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সন্ধ্যার স্বচ্ছ ও নির্মল আকাশ এখন যেন এক উন্মুক্ত মহাজাগতিক থিয়েটার।

১৬ মার্চের পর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিচ্ছে শুক্র গ্রহ, যা ‘সন্ধ্যাতারা’ নামে পরিচিত। এর কাছাকাছি অবস্থান করছে বুধ গ্রহ, যা সাধারণত সূর্যের নিকটবর্তী হওয়ায় দেখা কঠিন হলেও মার্চে কিছুটা দূরে সরে আসায় গোধূলিবেলায় ঢাকার আকাশেও তা স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। একই সময়ে আকাশের মাঝামাঝি স্থানে বৃহস্পতি নিজের আধিপত্য বজায় রাখছে এবং টেলিস্কোপের সাহায্যে এর চারটি গ্যালিলিয়ান উপগ্রহও দেখা সম্ভব। অন্যদিকে শনি ভোরের আগে পূর্ব দিগন্তে উদিত হচ্ছে, আর মার্চের শেষ সপ্তাহটিই বলয়ধারী এই গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে আকাশে দেখা যাবে আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা। এ সময় চাঁদের সরু ক্রিসেন্ট একে একে বিভিন্ন গ্রহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। ২০ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে চাঁদ, শুক্র ও বুধ খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে, যা সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করবে। ২৫ মার্চ চাঁদ বৃহস্পতির নিকটে অবস্থান নেবে, ফলে উজ্জ্বল বৃহস্পতি ও রুপালি চাঁদের সহাবস্থান খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে, বিশেষ করে আলোকদূষণমুক্ত আকাশে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে ৬ বিরল ‘গ্রহ প্যারেড’

এদিকে ২০ মার্চ ২০২৬ পালিত হবে বসন্তকালীন বিষুব। এদিন সূর্য ঠিক পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়ে পশ্চিমে অস্ত যাবে, ফলে দিন ও রাত প্রায় সমান হবে। ভৌগোলিকভাবে বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় এবং এটি ঋতু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত।

মার্চের শেষ দিকে রাত ১০টার পর আকাশের ঠিক ওপরে দেখা যাবে কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জ, যার তিনটি উজ্জ্বল তারা ‘বেল্ট’ হিসেবে সহজেই চেনা যায়। এর নিচে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে জ্বলজ্বল করবে লুব্ধক বা সাইরাস, যা আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। পাশাপাশি উত্তর আকাশে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকবে সপ্তর্ষিমণ্ডল বা আরসা মেজর। শহুরে আলোকদূষণ থাকা সত্ত্বেও ঢাকার আকাশে এসব নক্ষত্র দেখা সম্ভব হলেও শহরের বাইরে খোলা আকাশে গেলে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার হালকা সাদা আভাও নজরে আসতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এজন্য পশ্চিম আকাশ পরিষ্কারভাবে দেখা যায় এমন খোলা স্থান বা ভবনের ছাদ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খালি চোখে শুক্র ও বৃহস্পতি সহজেই দৃশ্যমান হলেও শনির বলয় কিংবা ইউরেনাসের আভা দেখতে হলে অন্তত ১০×৫০ ক্ষমতার একটি বাইনোকুলার ব্যবহার করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে মার্চের এই আকাশ কেবল রাতের সৌন্দর্যই নয়, বরং প্রকৃতি ও মহাকাশের এক অপূর্ব সংলাপ উপভোগের সুযোগ করে দিচ্ছে। একটু সময় বের করে আকাশের দিকে তাকালেই মিলতে পারে বিস্ময়ের নতুন এক দিগন্ত।

সূত্র: দ্য স্কাই লাইভ, স্কাইম্যাপ অনলাইন

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়