নির্বাচিত হয়েই বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাত্র একদিনের মাথায় বিসিবির পরিচালক পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন নবনির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। রাজশাহী অঞ্চল থেকে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই সোমবার (৮ জুন) তিনি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দেশের অন্যতম শীর্ষ ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচিত হওয়ার পরপরই এমন আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যে এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিলেও, সীমান্ত যে বিসিবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না, সেই ইচ্ছার কথা তিনি নির্বাচনের আগেই তার ঘনিষ্ঠজনদের এবং গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন।
নিজের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্তের প্রতি অনড় থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই তিনি পদত্যাগপত্র পেশ করেন এবং তা গ্রহণের জন্য বিসিবি সভাপতির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। রাজনৈতিক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়া এই পদত্যাগের বিষয়টি পরবর্তীতে বিএনপি মিডিয়া সেল থেকেও ছবিসহ বিস্তারিতভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়।
পদত্যাগপত্রে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত বিসিবির মতো একটি বড় জাতীয় প্রতিষ্ঠানে নিজের দায়িত্ব পালন করতে না পারার পেছনে মূলত পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির পুত্র।
আরও পড়ুন: বিসিবি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন চার পরিচালক
চিঠিতে সীমান্ত বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন যে, তার পিতা বর্তমানে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় তাদের পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বিরাট অংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ সকল দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তার ওপর ন্যস্ত হয়েছে এবং তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে তাকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিসিবির মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় পরিচালকের মতো অতি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল পদমর্যাদা ধরে রেখে উভয় দিকে সমানভাবে মনোযোগ দেওয়া এবং বোর্ডের কার্যক্রম যথাযথভাবে ও সুচারুরূপে সম্পাদন করা তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করছেন।
পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও ক্রিকেট বোর্ডের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই তিনি এই সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে সীমান্ত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেন যে, তিনি কেবল পদের খাতিরে কোনো দায়িত্ব আঁকড়ে ধরে রাখতে চান না, বরং বিসিবির প্রতি পূর্ণ দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এবং এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক স্বার্থ ও সুনামের কথা বিবেচনা করেই তিনি পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। রাজশাহী অঞ্চল থেকে একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েও বিসিবির কোনো কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেন, যা দেশের ক্রীড়া বোর্ডের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিসিবি সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সীমান্ত এই পদের প্রতি কোনো অনাগ্রহ বা অবহেলা থেকে নয়, বরং সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও সততার জায়গা থেকে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন না বলেই নির্বাচনের আগে থেকে শুরু করে নির্বাচিত হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত তার একই সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








