বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের
ছবি: সংগৃহীত
উন্নয়ন তহবিল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ নিজেদের প্রধান ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এ পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উয়েফাভুক্ত ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকের বরাতে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রতিষ্ঠানের অধীনেই ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বিপণন এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠানটি সংস্থাটির সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ফিফার দায়িত্ব অপরিবর্তিত থাকবে এবং নতুন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাও ফিফার কাছেই থাকবে।
এফএফইর সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফিফা ফাস্ট ফরওয়ার্ড প্রোগ্রাম (এফএফএফপি) বাস্তবায়নের জন্য ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফিফার এ পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে উয়েফা। তবে এটি কার্যকর করতে হলে ফিফার ৩৭ সদস্যের কাউন্সিল এবং অধিকাংশ সদস্যদেশের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী আন্তর্জাতিক বড় আসর হিসেবে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ। উয়েফার বয়কটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে এই দুটি আসরই অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ক্রিকেটে রদবদল: সাদা বলের নেতৃত্বে লিটন, টেস্টে বহাল শান্ত
যদিও ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং সদস্য দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক সমর্থনের অপেক্ষায় রয়েছে, তবু উয়েফার মতো প্রভাবশালী সংস্থার এমন কঠোর অবস্থান ফিফার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








