স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১৪, ৪ মে ২০২৬

বিসিবি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত, কমিশন গঠন ও কমিটি পুনর্গঠন

বিসিবি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত, কমিশন গঠন ও কমিটি পুনর্গঠন

ছবি: সংগৃহীত

৯০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নিজেদের কার্যক্রমের গতি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার (০৪ মে) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বোর্ড সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি। মূলত পরিকল্পনা পর্যায় পেরিয়ে বোর্ড এখন সরাসরি নির্বাচনী রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথে প্রবেশ করেছে।

এদিনের সভার প্রধানতম সিদ্ধান্ত ছিল আসন্ন বিসিবি নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গঠিত হতে যাওয়া এই কমিশনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) একজন প্রতিনিধি থাকবেন। বাকি দুই সদস্যকে বোর্ড নিজেই মনোনীত করবে। যদিও এই মুহূর্তে কমিশনের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্রের শতভাগ প্রতিফলন ঘটিয়েই দ্রুততম সময়ে এই তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে বোর্ড খুব শীঘ্রই বিসিবি গঠনতন্ত্রের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করবে। কাউন্সিলর চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মূলত নির্বাচনের মূল ডামাডোল শুরু হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: কানাডা জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ মন্টি দেসাই

প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এদিন বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাডহক কমিটি। সাবেক বোর্ড প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিগত কমিটির আমলে গঠিত চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাগুলোর অ্যাডহক কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রিকেট কাঠামোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বর্তমান কমিটির ওপর প্রধান ম্যান্ডেটই হলো ৩ মাসের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া, যার বাস্তবায়নে আজকের সভায় বড় অগ্রগতি দেখা গেল।

নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি বিসিবির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখার দিকেও নজর দিয়েছে বোর্ড। দুই বছরের জন্য কোকা-কোলা বাংলাদেশকে বিসিবির অফিসিয়াল ড্রিংকিং ওয়াটার ও বেভারেজ পার্টনার হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ মাস বিসিবির সকল কার্যক্রমে পানীয় স্পন্সর হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব পালন করবে।

বোর্ডের আজকের এই বহুমুখী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট যে, অ্যাডহক কমিটি কেবল রুটিন মাফিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসিবির নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত পর্ষদ বসানোর লক্ষ্যেই সুশৃঙ্খলভাবে এগোচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়