নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৪, ৩১ জুলাই ২০২৬

চিনিকলগুলোকে সারা বছর সচল করতে চায় সরকার: রিজভী

চিনিকলগুলোকে সারা বছর সচল করতে চায় সরকার: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সুগার মিলগুলোকে মৌসুমি শিল্পের পরিবর্তে সারা বছর উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী। 

তিনি বলেছেন, শুধু চিনি উৎপাদনের ওপর নির্ভর না থেকে বিভিন্ন ধরনের বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনের মাধ্যমে মিলগুলোকে লাভজনক ও টেকসই শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিসিকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে নাটোর সুগার মিল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। 

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সুগার মিল বছরে আখ মাড়াই মৌসুমের কয়েক মাসই সচল থাকে। বছরের বাকি সময় মিলগুলোর বিপুল জনবল, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো প্রায় অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকে। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার মিলগুলোর উৎপাদন কাঠামোয় বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা করছে, যাতে একই অবকাঠামো ব্যবহার করে বছরজুড়ে বিভিন্ন শিল্পপণ্য উৎপাদন সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুগার মিলগুলো শুধু চিনি উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আখ থেকে উৎপাদিত মোলাসেস, ইথানল, জৈব সার, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানা ধরনের উপপণ্য তৈরি করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক রাখা হয়। বাংলাদেশেও সেই ধরনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এর ফলে মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের লোকসান কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই

রিজভী আরও বলেন, শিল্পায়নের বিকেন্দ্রীকরণে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সুগার শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কেবল উৎপাদন নয়, ব্যবস্থাপনা, কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং বাজারব্যবস্থাকেও সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে। সরকার এ খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে।

পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মসলেম উদ্দিন, নাটোর সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর অধিকাংশই মৌসুমি ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। আখ মাড়াই মৌসুম শেষ হলে বছরের দীর্ঘ সময় এসব মিলের উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের সংকট, লোকসান এবং আধুনিকায়নের অভাবের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সুগার শিল্প নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে মিলগুলোকে বহুমুখী উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিক, আখচাষি এবং সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে উঠে আসছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়