নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৩৩, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ফ্ল্যাট জব্দ

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ফ্ল্যাট জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রিজেন্টস পার্কের কাছে দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। ফ্ল্যাটটির সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অর্থ পাচারের মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি কেনা হয়ে থাকতে পারে বলে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী পরিবারের সম্পদের বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত এ নিষেধাজ্ঞা দেন। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ফ্ল্যাটটি অর্থ পাচারের মাধ্যমে কেনা হয়ে থাকতে পারে বলে এমন সন্দেহে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) তদন্ত করছে। ২০২৩ সালে ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এর প্রকৃত মালিক বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইনের আওতায় সম্পদের অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হলে সেটি অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

তদন্তে ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা গোপন রাখতে জটিল ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়। ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের উৎসও ব্যাখ্যা করতে পারেননি আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলে জানিয়েছে এনসিএ।

এটি এনসিএর বৃহত্তর তদন্তের অংশ। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করার জন্যও আদালতের আদেশ নেওয়া হয়।

আদালতে এনসিএ জানায়, ফ্ল্যাটটির সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অর্থ পাচারের সন্দেহজনক যোগসূত্র রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিক আনিসুজ্জামান রনি চৌধুরী। তার কোম্পানি ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য যে অর্থ ব্যবহার করেছে, সেই অর্থের উৎস তিনি ব্যাখ্যা করতে পারেননি।

এনসিএর এক তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে লিখিত সাক্ষ্যে বলেন, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্ল্যাটটির মালিকানাসংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয় একটি পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এনসিএর অভিযোগ, এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ আড়াল করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সম্পদটির মালিকানা তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

রায়ে বিচারপতি কারেন স্টেইন বলেন, ফ্ল্যাটটি অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে বলে এমন দাবি করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। এ কারণে তিনি ফ্ল্যাটটি বিক্রি বা হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে বাড়িওয়ালা যাতে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে সম্পত্তির দখল ফিরে পেতে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা হয়েছে। আদালতে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরোধিতা করেননি।

তবে আনিসুজ্জামান চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি কোনো বেআইনি কাজ করেননি। সম্পদের মালিকানা গোপন করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে কোনো দেওয়ানি মামলা হলে তা জোরালোভাবে মোকাবিলা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন

যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের নথি অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান চৌধুরী ২০২৩ সালে রনি ৪২ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে রিজেন্টস পার্ক এলাকার ফ্ল্যাটটি কেনেন। সে সময় ফ্ল্যাটটির দাম ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড। হাইকোর্টে জানানো হয়, পরে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ রাখা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়