নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ৬৬০৮ কোটি টাকার যানবাহন কেনার প্রস্তাব

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ৬৬০৮ কোটি টাকার যানবাহন কেনার প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের যানবাহন সংকট কাটিয়ে নিয়মিত টহল, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম জোরদার করতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। 

সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রকল্প দুটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো মেলেনি।

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা এবং ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় পুলিশি সেবা দিতে গিয়ে এসব যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্টেশনপ্রতি গড়ে দুটি যানবাহনও নেই। এর মধ্যে বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। ফলে নিয়মিত টহল, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করতে সমস্যা হচ্ছে। নতুন যানবাহন যুক্ত হলে পুলিশের চলাচল ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষায়িত যানবাহনের তালিকায় রয়েছে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষ ভ্যান। এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং অপরাধ তদন্তে আলামত সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি নদীপথে পুলিশের কার্যক্রম জোরদার করতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব জলযান দিয়ে নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন: পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নাম বদলে এখন স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট

যানবাহন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দক্ষতা বাড়াতে প্রকল্প দুটিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিকস প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিকস প্রশিক্ষণ এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিকস প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিকস প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

অর্থবছরভিত্তিক প্রস্তাবিত ব্যয়ের হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। উভয় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে হকস বে। প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক মূল্যায়নে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১ দশমিক ০৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের আনুমানিক নিট বর্তমান মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের ১৭৬ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রকল্পের নিট বর্তমান মূল্য ১২ শতাংশ বাট্টার হার ধরে হিসাব করা হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয় এবং প্রস্তাবটি সরকারি প্রশিক্ষণ ও অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রকল্পটি নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটিও একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হলে পুলিশের যানবাহন বহর ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে জননিরাপত্তার কতটা উন্নতি হবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বণ্টন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষিত জনবলের কার্যকর ব্যবহারের ওপর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়