সৌদিতে হুতি হামলায় হতাহত দুই বাংলাদেশি, তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের
ফাইল ছবি
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক দফায় দফায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইয়েমেনে চলমান সংকট নিরসনে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদির পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে চালানো এসব হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সরকার গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌদি সরকার এবং সে দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে ঢাকা। যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও হামলা অবিলম্বে বন্ধের তাগিদ দিয়ে টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক উপায়ে অগ্রসর হওয়ার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: মদিনায় হুতিদের ড্রোন হামলায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ
এদিকে, আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদ, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমা লক্ষ্য করে চালানো হুতি বিদ্রোহীদের একাধিক বিমান হামলা সফলভাবে নস্যাৎ করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে।
ঘটনার আগের দিন সৌদির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করা হলে সেখানে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হন। পাশাপাশি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারান। এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়ে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সহিংসতা বাড়িয়ে তোলে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিলে সংকট শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সবশেষ এ সংঘর্ষ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তার ওপর তৈরি করেছে নতুন ঝুঁকি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








