নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ না করার শর্তে মুক্ত সিজেপির দুই নেতা

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ না করার শর্তে মুক্ত সিজেপির দুই নেতা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ না করার লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে সাত দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) নয়াদিল্লির একটি বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত অব্যাহত থাকবে। 

আদালতের শর্ত অনুযায়ী, আইনগতভাবে যন্তর মন্তরকে পুনরায় নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো বিক্ষোভের ডাক দিতে পারবেন না তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মুক্তির জন্য দুই নেতাকে প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ অর্থের জামিনদারি বন্ড জমা দিতে হয়েছে। মুক্তির আগে তারা শান্তি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার অঙ্গীকার করেন। আদালতের নথিতে তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ করবেন না তারা। ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হলে তা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সীমার মধ্যে থেকেই পরিচালনা করা হবে বলেও লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন দুই নেতা।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ান রাঙ্কা ও দাস। প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, এর এক দিন আগে নয়, বরং ১০ অক্টোবর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার ঘটনায় আটক হওয়ার পর তারা শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। সেই অঙ্গীকারের পরও যন্তর মন্তরের ব্যারিকেড অতিক্রম করে বিক্ষোভ করায় তারা মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন বলে দাবি করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে ১৯ অক্টোবর হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। পুলিশ তাদের আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানালেও বুধবার আদালত মুক্তির নির্দেশ দেন।

এদিকে, হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিজেপি। দলটির অভিযোগ ছিল, দুই নেতাকে আটকে রাখার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। তবে বুধবার আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট দুই নেতার আগে দেওয়া শান্তি রক্ষার মুচলেকা এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরে। 

আরও পড়ুন: ভারতে ককরোচদের ঠেকাতে লাল হিট জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, বিক্ষোভের সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা ব্যারিকেড ভাঙলে অন্যরাও তাদের অনুসরণ করতে পারেন। এতে এমন ব্যক্তিরাও পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন, যাদের ওপর আয়োজকদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। 

আদালত আরও বলেন, ভারতের বাইরেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে পরিস্থিতি অগ্নিসংযোগ ও ভবন পোড়ানোর মতো সহিংসতায় গড়িয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে আদালত নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

শুনানির সময় দুই নেতার বয়স জানতে চান হাইকোর্ট। তাদের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ৩১ বছর জানানো হলে বিচারকেরা মন্তব্য করেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন। সাধারণত তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই প্রজন্মের অংশগ্রহণ আলোচনায় এসেছে। 

এদিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সৌরভ দাস বলেন, সত্যের জয় হয়েছে। 

তবে হাইকোর্টে তাদের হেফাজত-সংক্রান্ত আবেদনের শুনানির পর আদালত তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। শেষ পর্যন্ত বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতেই মুক্তির আদেশ আসে।

অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে কাজ করছে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন- এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও পাল্টা অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই দুই নেতার মুক্তি হলো। আদালতের শর্ত অনুযায়ী, আইনসম্মতভাবে স্থানটিকে পুনরায় প্রতিবাদস্থল হিসেবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দিতে পারবেন না তারা। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়