আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:২১, ২২ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৪:২২, ২২ অক্টোবর ২০২৬

দ. কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বসাচ্ছে উ. কোরিয়া

দ. কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বসাচ্ছে উ. কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে আবারও বিশালাকার লাউডস্পিকার (মাইক) বসানো এবং নতুন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে সিউলকে সবচেয়ে ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, চলতি অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে সেনা দুর্গ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি।

কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে। তার অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার করেছে এবং একাধিক স্থানে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে।

সতর্কতামূলক গুলির বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে কিম ইয়ো জং হুঁশিয়ারি দেন, দক্ষিণ কোরিয়ার গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের বাহিনীকে বিনা দ্বিধায় ও নির্মমভাবে নির্মূল করা হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ কমান্ডের (ইউএনসি) সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদারে সিউলের নেওয়া পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে বলেই কিম ইয়ো জং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়াও সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সৌদির কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১, আহত ৮

উল্লেখ্য, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ার পর থেকেই ডিএমজেড সীমান্ত দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে। ঐতিহাসিকভাবে উভয় দেশই এই সীমান্তে প্রচারযুদ্ধের অংশ হিসেবে বড় আকারের লাউডস্পিকার ব্যবহার করেছে।

সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, কিম ইয়ো জংয়ের হুমকির অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকারগুলো অবিলম্বে চালু করা হবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বিধা তৈরি করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়