১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে কুচকাওয়াজ
ফাইল ছবি
দীর্ঘ ১৮ বছরের বিরতি কাটিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আবারও রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য সামরিক কুচকাওয়াজ। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের প্রেক্ষাপটে এবারের ২৬ মার্চকে বিশেষভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা চার মেয়াদে এই ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ বন্ধ থাকলেও, এবার তা পুনরায় ফেরানো হচ্ছে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায়।
একসময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হতো জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ। তবে গত প্রায় দেড় দশক ধরে এই আয়োজন বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রায় ২০ বছর পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আগামী ২৬ মার্চকে সামনে রেখে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি। সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন, পাশাপাশি বিশাল প্যান্ডেল, ভিআইপি গ্যালারি ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আয়োজনে শৃঙ্খলা ও আনুষ্ঠানিকতার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এবারের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিরাও অংশ নেবেন।
আরও পড়ুন: ঈদের শিক্ষায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
মহড়ায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, বিজিবি ও বিএনসিসির সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালের মহড়ায় কুচকাওয়াজের অধিনায়ক নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক উপস্থিত থেকে সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করেন। আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল অনুযায়ী ডামি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অনুশীলনের মাধ্যমে কুচকাওয়াজের প্রতিটি ধাপ যাচাই করা হয়। সশস্ত্র সালাম, পরিদর্শন ও কন্টিনজেন্টের মার্চপাস্ট সবকিছুই নির্ধারিত নিয়মে মহড়ায় সম্পন্ন হচ্ছে।
এবারের কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাঁজোয়া ইউনিট, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টসহ বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে। পাশাপাশি থাকবে জাতীয় পতাকাবাহী সমন্বিত কন্টিনজেন্ট, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ইউনিট, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি এবং প্যারাট্রুপার দল। মূল অনুষ্ঠানে পদাতিক কন্টিনজেন্টের পাশাপাশি যুক্ত হবে যান্ত্রিক বহর, যেখানে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক যান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শনী থাকবে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে কুচকাওয়াজের এই আয়োজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি চর্চা। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান, চীন ও উত্তর কোরিয়ায় জাতীয় দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতির প্রতীকী বার্তা বহন করে।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে এবারের স্বাধীনতা দিবসে দেশব্যাপী আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজের পুনরাগমনকে ঘিরে রাজধানীতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে রাষ্ট্রীয় গৌরব, সামরিক শৃঙ্খলা এবং জাতীয় ঐক্যের একটি সমন্বিত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








