News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৪, ৯ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১৯:১৫, ৯ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশের প্রধান তেল ডিপোগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। 

সোমবার (০৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং এর প্রেক্ষিতে দেশীয় বাজারে তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থেকেই এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের পাম্প ও ডিলারদের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলারদের এই আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

বিপিসি জানায়, জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ডিপোগুলোতে শ্রমিক, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দেশের জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোগুলো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা ‘কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন’ (KPI) ভুক্ত হওয়ায় এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। 

আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে মোবাইল কোর্ট

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনাসহ খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোকে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার (০৭ মার্চ) বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক চিঠিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। একটি চিঠিতে প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং অপর চিঠিতে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে (পাম্প) পুলিশি টহল জোরদার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। 

বিপিসি জানিয়েছে, কিছু ভোক্তা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে তেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পাম্পগুলোতে ক্রেতা ও কর্মচারীদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সরকার আশা করছে, সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে জাতীয় জ্বালানি গ্রিডে তেলের মজুত ও বণ্টন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ হবে। বিশেষ করে সাধারণ গ্রাহক ও পরিবহন চালকদের মাঝে তেলের জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক দূর করতে এই পদক্ষেপ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট ডিলার ও বিতরণকারী কোম্পানিগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। নাশকতা বা যেকোনো ধরণের অরাজকতা রোধে এই সামরিক প্রহরার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়