নির্বাচন নিয়ে যা বললেন সেনাপ্রধান
ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নির্বাচনের নিরাপত্তা ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের প্রেক্ষাপটসহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সেনাবাহিনী প্রধান সভায় জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে মোট ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়। কঠোর অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, একই সময়ে বিভিন্ন থানা থেকে মোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট পরিমাণের ৫২ শতাংশ। বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিচ্ছে ভারত
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৈঠকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনী পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, গৃহীত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতিকে একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানান, প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে যেন কোনোরূপ ঘাটতি না থাকে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ২১ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকেই প্রচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








