News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১২, ১৭ মার্চ ২০২৬

পহেলা বৈশাখে ১১ উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ

পহেলা বৈশাখে ১১ উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের কৃষকদের আধুনিক ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ বা ‘ফার্মার্স কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১১টি উপজেলার মোট ২২ হাজার কৃষককে এই কার্ড প্রদানের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রী মো. আমিনুর রশীদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: দেশীয় প্রযুক্তিতে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় ১১ উপজেলা নির্বাচিত হয়েছে, যা হলো টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী। প্রথম ধাপে এই উপজেলাগুলোর ২২ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করতে এবং ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা, বীজ, সার ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তিনি আরও বলেন, কার্যক্রমের অগ্রগতি ১৪ এপ্রিলের মধ্যে দৃশ্যমান করতে হবে।

প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নির্ভরযোগ্য পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া এই কার্ড ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বছরে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ থাকবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তারা সার, বীজ, কীটনাশক এবং পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।

এ কার্যক্রম বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ, যেখানে দেশের কৃষকদের জন্য আধুনিক ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সহজ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন এবং একযোগে নির্বাচিত ১১ উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়