ঝিনাইদহে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার মাধ্যমে লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আবু তাহেরকে (৩৩) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ছালেহউজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া, লাশ গুম ও আলামত নষ্টের অপরাধে আসামিকে পৃথকভাবে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি আবু তাহের আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথিপত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ঘাতক আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং ভিকটিম শিশুটির প্রতিবেশী ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ বছরের শিশুটিকে নিজের ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যান তিনি। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে শুরু করলে আবু তাহের নিজের পরনের লুঙ্গি দিয়ে তার নাক ও মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
ঘটনার পরপরই ঘাতক এলাকা থেকে পালিয়ে গেলেও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে বিস্তারিত জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে মামলার চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৭ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে দ্রুততম সময়ে এই রায় ঘোষণা করা হলো, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আকিদুল ইসলাম সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল। আদালত দণ্ডপ্রাপ্তের সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন, যা বিচারপ্রার্থী পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম জোয়ার্দার রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিহত শিশুর বাবা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন আমাদের একমাত্র দাবি হলো, এই দণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার কার্যক্রম রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হওয়ায় আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয় জনমহল ও ভুক্তভোগী পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এই রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








