শ্রীলঙ্কায় শিশু নির্যাতনে প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রেফতার
বৌদ্ধ ভিক্ষু পল্লেগামা হেমারথানা। ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দেশটির উচ্চপর্যায়ের এক প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষু পল্লেগামা হেমারাথানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি দেশটির ধর্মীয় ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে উচ্চপ্রোফাইল মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, ৭১ বছর বয়সী হেমারাথানাকে ৯ মে রাজধানী কলম্বোর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়। তিনি তখন চিকিৎসার জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন, যদিও তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি তদন্ত চলছিল এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা ও শিশুসুরক্ষা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পর অনুরাধাপুরার ম্যাজিস্ট্রেট তাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন, যার ভিত্তিতেই এই আটক অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালে অনুরাধাপুরার একটি বৌদ্ধ মন্দিরে, যেখানে ওই শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ভিক্ষুকে সহযোগিতা করার অভিযোগে শিশুটির মাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যা মামলাটিকে আরও জটিল ও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী সব আইনি পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে এবং বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পল্লেগামা হেমারাথানা শুধু একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবেই নয়, কলম্বো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। তিনি একাধিক বৌদ্ধ মন্দিরের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন এবং একটি পবিত্র বৃক্ষের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন, যা বোধিবৃক্ষের বংশধর হিসেবে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ মর্যাদা বহন করে। তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ অতীতে ধর্মীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও এত উচ্চপর্যায়ের কোনো ভিক্ষুর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এই প্রথমবার এত বড় পরিসরে সামনে এলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর এলাকায় কিছু ভিক্ষুর মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনাও দেশটির ধর্মীয় মহলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। ফলে হেমারাথানার গ্রেফতার শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়, বরং শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








