News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ৯ মে ২০২৬

পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরানোই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরানোই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন জনগণ গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করছে, যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে এবং অবিচার, অনাচার কিংবা নির্যাতনের আতঙ্ক থাকবে না।

শনিবার (০৯ মে) ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বাণী ও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

আগামীকাল রবিবার (১০ মে) শুরু হতে যাওয়া চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্যারেড পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, দায়িত্ব পালন তত সহজ ও কার্যকর হবে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিস্তৃত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু ঘরে-বাইরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণেই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রাধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার, দক্ষ ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের পুলিশ সপ্তাহ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত বাহিনী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট, দুর্যোগ ও প্রয়োজনের মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি অনুকূল ও উপযোগী পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতা ও সক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম সাম্প্রতিক নির্বাচন সেটিই প্রমাণ করেছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশ পুলিশের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ এবং নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এজন্য সরকারের দৃষ্টিতে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগ কেবল প্রশাসনিক ব্যয় নয়, বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অপরিহার্য অংশ।

মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদকদ্রব্যের বিস্তার এবং সামাজিক অস্থিরতার মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক, বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাহিনীর সার্বিক সাফল্য, পেশাগত উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এদিকে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক, আলোচনা, দিকনির্দেশনামূলক অধিবেশন ও সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবারে ১০৭ জন পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়