বিশ্বকাপের নতুন থিম সং নিয়ে ফিরছেন শাকিরা
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল আর কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরা এই দুই নাম যেন গত দুই দশক ধরে একই সুতায় গাঁথা। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ দিয়ে বিশ্ব মাতানো সেই চিরচেনা ছন্দ নিয়ে আবারও ফিফা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে প্রত্যাবর্তন করছেন এই ল্যাটিন পপ তারকা।
২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং গাইতে যাচ্ছেন শাকিরা। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের সংগীত ইতিহাসে তার অবদান নতুন করে আলোড়ন তুলছে এবারের আসরের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ ঘিরে। তবে এবার তিনি একা নন, তার সঙ্গী হিসেবে থাকছেন বিশ্বখ্যাত নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস আইকন ও গ্র্যামি বিজয়ী তারকা বার্না বয়। গানটি ১৪ মে বিশ্বব্যাপী প্রকাশের কথা রয়েছে, যা ইতোমধ্যে ফুটবল ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
ফিফা ও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ঘোষণার পর জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তৈরি এই গানটি বিশ্বকাপের বহুসাংস্কৃতিক চরিত্রকে তুলে ধরবে। ল্যাটিন পপের আবেগঘন ছন্দের সঙ্গে আফ্রোবিটসের প্রাণবন্ত ও রিদমিক সাউন্ড একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছে নতুন এই সঙ্গীতধারা, যা আধুনিক বিশ্বসংগীতের একটি ক্রসওভার প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি শাকিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা একটি টিজার ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায় আয়োজক তিন দেশের যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীদের পারফরম্যান্স। ভিডিওটির আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলের উপস্থিতি, যা শাকিরার আগের বিশ্বকাপ সংগীতগুলোর প্রতি একটি প্রতীকী শ্রদ্ধা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন নোরা ফাতেহি
শাকিরার বিশ্বকাপ ইতিহাসও সমানভাবে সমৃদ্ধ। ২০০৬ সালে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে বহুল জনপ্রিয় ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ এবং ২০১4 ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘লা লা লা’ গান দিয়ে তিনি বিশ্বব্যাপী ফুটবল উন্মাদনায় অনন্য মাত্রা যোগ করেছিলেন। বিশেষ করে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় থিম সং হিসেবে বিবেচিত।
নতুন গান ‘দাই দাই’-এ তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন নাইজেরিয়ান গ্র্যামি-বিজয়ী শিল্পী বার্না বয়, যিনি আফ্রোবিটস, ড্যান্সহল ও রেগে ঘরানার বৈশ্বিক জনপ্রিয়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার অংশগ্রহণ গানটিতে সমসাময়িক আফ্রিকান সংগীতের শক্তিশালী উপস্থিতি যুক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এই সহযোগিতা কেবল সংগীত নয়, বরং বিশ্বকাপের ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং বৈশ্বিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
ফিফার ঘোষণায় জানানো হয়েছে, গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ মে প্রকাশ করা হবে। এর আগে টিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শাকিরার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন হবে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরের বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই মহাযজ্ঞ।
সব মিলিয়ে, শাকিরা ও বার্না বয়ের ‘দাই দাই’ শুধু একটি থিম সং নয়, বরং ২০২৬ বিশ্বকাপের আগাম আবেগ, সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফুটবল মাঠে বল গড়ানোর আগেই এই গান বিশ্বজুড়ে উন্মাদনার নতুন ঢেউ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








