News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ৯ মে ২০২৬

আসামে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ

আসামে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

ভারতের আসাম রাজ্যে আঘাত হানা মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। 

শনিবার (০৯ মে) বিকেল নাগাদ হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রংপুর বিভাগ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার তথ্য শেয়ার করেন।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস), ইউএসজিএস, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এবং ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় ভারতের আসামের দক্ষিণ সালমারা-মানকাচার এলাকায়। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সংঘটিত এ কম্পনের মাত্রা বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫-এর মধ্যে ছিল।

ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল আসামের ধুবরি শহর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে। তবে ভূমিকম্পটির গভীরতা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক বিশ্লেষণে এটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অগভীর ভূমিকম্প হলে উৎপত্তিস্থলের আশপাশে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়, যদিও এর বিস্তার তুলনামূলক সীমিত থাকে। বিপরীতে গভীর ভূমিকম্প অনেক দূরবর্তী এলাকাতেও অনুভূত হতে পারে।

আরও পড়ুন: সিলেটে ফের ভূমিকম্প: সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

ইএমএসসি তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আসামের বিলাসিপাড়া অঞ্চলের কাছাকাছি। 

সংস্থাটির তথ্যমতে, কম্পনের প্রভাব বাংলাদেশের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর এবং ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কয়েক সেকেন্ড ধরে ভবন কেঁপে ওঠার খবর পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসও একই ভূমিকম্পের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের হিসাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও উৎপত্তিস্থল ও সময়ের ক্ষেত্রে তথ্য প্রায় একই।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় ঘরের আসবাবপত্র ও দরজা-জানালায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়। কেউ কেউ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো অংশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পটি সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অনুভূত হলেও এর প্রভাব ছিল স্বল্পস্থায়ী। তবুও ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে এমন কম্পন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় হওয়ায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়