News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৮, ৯ মে ২০২৬

শিক্ষার আধুনিকায়নে কারিকুলাম ও ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের ঘোষণা

শিক্ষার আধুনিকায়নে কারিকুলাম ও ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিশ্ববাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সিলেবাস, কারিকুলাম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুনর্গঠনের বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

শনিবার (০৯ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন ফোরাম-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। চীন দূতাবাস এবং ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক ফোরামের আয়োজন করে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় শুধু প্রচলিত শিক্ষা কাঠামো দিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দক্ষতাভিত্তিক রূপে গড়ে তোলার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। 

তিনি জানান, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে সিলেবাস, কারিকুলাম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের মোট জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

তার মতে, উন্নত মানবসম্পদ তৈরি করতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে হলে প্রথমেই শিক্ষকদের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সাধারণ এবং কারিগরি শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: আরও পড়ুন: ‘শিক্ষা ও কারিগরি সহায়তাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল সেতুবন্ধন’

তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের শিক্ষকরা আরও দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশই পারস্পরিক উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফোরামে বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এসব সমঝোতার মাধ্যমে শিক্ষা বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আয়োজকরা জানান।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষা ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তি, ডিজিটাল লার্নিং পদ্ধতি এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী শিক্ষা উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. এবিএম বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়