News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ৮ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দক্ষিণি রাজনীতির দীর্ঘ ছয় দশকের প্রথাগত সমীকরণ ভেঙে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে তামিলনাড়ু। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ অর্জন করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়। তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) কংগ্রেস ও বামপন্থীদের সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। 

শুক্রবার (০৮ মে) সন্ধ্যায় রাজভবনে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে বিজয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি উত্থাপন করবেন। এর মধ্য দিয়ে টানা চার দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও চরম নাটকীয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে বিজয়ের দল টিভিকে। তবে বিজয় নিজে পেরাম্বুর ও ত্রিচি পূর্ব এই দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় নিয়মানুযায়ী তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। ফলে তার দলের কার্যকর বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা (১১৮ আসন) থেকে তিনি ১০টি আসন পিছিয়ে ছিলেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিজয় যেভাবে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির ৬২ বছরের আধিপত্য চুরমার করে দিয়েছেন, তাকে আধুনিক ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে শুরু হয় টানটান উত্তেজনা। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার পর পর দুদিন গভর্নর আর ভি আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সমর্থনকারী দলগুলোর সুনির্দিষ্ট তালিকা দেখাতে না পারায় দুবারই বিজয়ের দাবি নাকচ করে দেন গভর্নর। রাজভবন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ১১৩ জন বিধায়কের মৌখিক সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়; বরং ১১৮ জন নির্বাচিত বিধায়কের স্বাক্ষরিত সমর্থনপত্র জমা দিলেই কেবল তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে। গভর্নরের এই অনমনীয় অবস্থান বিজয়কে নতুন রাজনৈতিক মিত্র খুঁজতে বাধ্য করে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত শুভেন্দু অধিকারী

এককভাবে সরকার গঠনের সামর্থ্য না থাকায় বিজয় দ্রুতই মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। শুরুতে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক তাকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয় যে, টিভিকে কোনোভাবেই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ বা বিজেপির সঙ্গে জোট করতে পারবে না। কংগ্রেসের ৫ জনের সমর্থনে বিজয়ের ঝুড়িতে আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১১২। এরপরই মূল আলোচনা শুরু হয় বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে।

পূর্বতন শাসক দল ডিএমকে-র দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং দুই বামপন্থী দল সিপিআই ও সিপিআইএম অবশেষে শুক্রবার দুপুরে বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ভিসিকে-র ২ জন, সিপিআই-এর ২ জন এবং সিপিআইএম-এর ২ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয়ের জোটের মোট আসন সংখ্যা পৌঁছায় ১১৮-তে। এর বিনিময়ে নতুন মন্ত্রিসভায় বামপন্থী ও আঞ্চলিক দলগুলো থেকে একজন করে এবং কংগ্রেস থেকে দুজন মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজয়ের উত্থান ঠেকাতে তামিল রাজনীতির দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র মধ্যে একটি ‘অপ্রত্যাশিত’ জোটের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। আদর্শগতভাবে বৈরী হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় দল দুটি এক হওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়। অতীতে এমজিআর কিংবা স্টালিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের কথা স্মরণ করে তারা শঙ্কিত ছিল। তবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তীব্র বিরোধিতা এবং আদর্শিক সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই ‘অপবিত্র জোট’ আলোর মুখ দেখেনি।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় গভর্নরের সঙ্গে বিজয়ের এই তৃতীয় বৈঠকটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমর্থিত ১১৮ জন বিধায়কের তালিকা জমা দেওয়ার পর গভর্নরের পক্ষ থেকে কোনো আইনি বাধা থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রিয় তারকার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খবর চাউর হতেই চেন্নাইজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিজয়ের বাসভবনের সামনে হাজার হাজার সমর্থক ‘টিভিকে-টিভিকে’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে রেখেছেন। রূপালি পর্দার সফল নায়ক এবার বাস্তব জীবনের প্রশাসনিক চালকের আসনে বসে তামিলনাড়ুর ভাগ্য বদলাতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়