News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ১ মে ২০২৬

ধ্বংসস্তূপ থেকে লুকানো অস্ত্র বের করছে ইরান, যুদ্ধের ইঙ্গিত

ধ্বংসস্তূপ থেকে লুকানো অস্ত্র বের করছে ইরান, যুদ্ধের ইঙ্গিত

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ৩৮ দিনের বিধ্বংসী সংঘাতের পর কার্যকর হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের মাটির নিচে লুকানো এবং বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও এমএসএন-এর প্রতিবেদনে শুক্রবার (০১ মে) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। 

ওয়াশিংটন মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতেই তেহরান কৌশলগতভাবে এই সময়টিকে ব্যবহার করছে।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে ইরানের এই উদ্ধার অভিযান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং গোলাবারুদ বের করে এনে নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে চাইছে তারা। 

যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সম্প্রতি পেন্টাগনে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান কী করছে তা মার্কিন বাহিনীর নখদর্পণে রয়েছে। 

তিনি দাবি করেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সেগুলো প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা ইরানের নেই। তবে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংসের দাবি করলেও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে কিছুটা ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। 

আরও পড়ুন: হরমুজে নতুন অধ্যায় শুরু, কার ইশারায় বদলাচ্ছে ভূ-রাজনীতি?

গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের আগেই ইরান তাদের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-সরঞ্জামের একটি বড় অংশ ছদ্মবেশে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল, যা এখনো অক্ষত আছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে যুদ্ধের সুর বাজছে ট্রাম্প প্রশাসনেও। শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে আবারও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। 

তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান আলোচনা অত্যন্ত সীমিত এবং পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। এরই অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। যেখানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প এবং ইরানি বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করবেন। এই বৈঠকেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করা এবং হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীও সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’-এ বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ও রসদ তোলার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছে সেন্টকম, যা বর্তমানে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে ৪৭-৫০ ভোটে নাকচ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের সামরিক পরিকল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। আজ শুক্রবারই ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর ট্রাম্পের আইনি বাধ্যবাধকতার সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে, যা তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হবে কি না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের ওপর। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। এর আগে যুদ্ধের কারণে একবার এই সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা দ্বিতীয়বার পেছাতে আগ্রহী নয় প্রশাসন। তবে ইরানের বর্তমান তৎপরতা এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেন কি না, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়