News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ১ মে ২০২৬

শ্রমিক-কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

শ্রমিক-কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষকরা ভালো থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

বর্তমান সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশের প্রতিটি সেক্টরকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। অর্থনীতিকে পরিণত করা হয়েছিল লুটপাটের মহোৎসবে। সেই রুগ্ন দশা থেকে দেশকে টেনে তুলতে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

শুক্রবার (০১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সশরীরে নয়াপল্টনের কোনো সমাবেশে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ।

সমাবেশে তারেক রহমান দেশের শিল্প খাত ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা ইতিমধ্যে বসেছি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু কারখানা চালু করলেই সংকটের সমাধান হবে না, দেশে ও বিদেশে লাখ লাখ বেকার শ্রমিকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে যেন নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়। 

তিনি আরও যোগ করেন, হকারদের কেবল উচ্ছেদ করলেই চলবে না, তাদের যথাযথ পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে যেন তারা আত্মসম্মানের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।

আরও পড়ুন: নয়াপল্টনে মে দিবসের শ্রমিক সমাবেশে জনসমাগম

কৃষক ও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি এবং কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্ত্রীরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন, যার মাধ্যমে তারা বিশেষ সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। 

দেশের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে পুনরায় ‘খাল খনন’ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে বলে তিনি জানান, যাতে কৃষকরা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পানি পেতে পারেন।

বিগত আওয়ামী শাসনামলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী সরকার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে এবং সাধারণ মানুষকে সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্রকারীরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে বিতর্কিত ও বন্ধুহীন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু জনগনকে সাথে নিয়ে সেই চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে। 

তিনি স্মৃতিরোমন্থন করে বলেন, একসময় নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে গেলে হামলার আতঙ্কে থাকতে হতো, কিন্তু এখন মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের অধিকারের কথা বলতে পারছে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে সরকারের সংস্কার কর্মসূচিতে জনগনকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তাদের খবরাখবর জানতে চাইলে সমস্বরে সবাই ‘ভালো আছি’ বলে চিৎকার করে সমর্থন জানান। তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়