ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি কি বেঁচে আছেন? কাটজের দাবি ঘিরে রহস্য
আলি লারিজানি ছবি: সংগৃহীত
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলি লারিজানিকে লক্ষ্য করে রাতভর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, যা পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, রাতভর চালানো সুনির্দিষ্ট হামলার পর তাকে জানানো হয়েছে যে আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ ও সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লারিজানিই ছিলেন এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু বা ‘টার্গেট কিলিং’-এর শিকার। ইসরায়েলি সামরিক প্রধান এয়াল জামির এক বিবৃতিতে সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করলেও জানিয়েছেন, গত রাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক সাফল্য’ অর্জিত হয়েছে। দেশটির এন১২ টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, হামলার ফলাফল এখনো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আলি লারিজানিকে সর্বশেষ গত শুক্রবার তেহরানে ‘আল-কুদস দিবস’-এর বিশাল র্যালিতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। ওই পদযাত্রার সময় তেহরানে একটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা লারিজানি নিজেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন।
আরও পড়ুন: সংঘাতের ১৪ দিন, রণনীতি না কি পিছুটান, কোন পথে ট্রাম্প?
সে সময় তিনি সাহসিকতার সাথে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এই হামলাগুলো শত্রুদের ভয় ও হতাশার লক্ষণ। ট্রাম্প বা ইসরায়েল কেউই ইরানের সংকল্প দমাতে পারবে না।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ইসরায়েলি পক্ষ থেকে মৃত্যুর দাবি জোরালো হলেও ইরান এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ ও ‘মেহর’ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আলি লারিজানি শিগগিরই একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে জনসমক্ষে বা সংবাদমাধ্যমে উপস্থিত হতে পারেন। যদি লারিজানির মৃত্যুর খবর সত্য হয়, তবে এটি হবে যুদ্ধের শুরুর দিকে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর ইরানের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম অপূরণীয় ক্ষতি। লারিজানি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক আলোচক এবং খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলি লারিজানিকে লক্ষ্য করে এই হামলা ইরান-ইসরায়েল সরাসরি সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তেহরানের পক্ষ থেকে লারিজানির অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের মেঘ কাটছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








