News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৫৯, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: ‘শান্তি ভাবার বাধ্যবাধকতা নেই’

নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: ‘শান্তি ভাবার বাধ্যবাধকতা নেই’

ফাইল ছবি

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এখন আর কেবল বৈশ্বিক শান্তির কথাই ভাবার কোনো বাধ্যবাধকতা তিনি অনুভব করেন না। 

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরকে পাঠানো একাধিক চিঠি ও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, বিবিসি, সিবিএস নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান ও আনাদোলু এজেন্সি।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, প্রিয় জোনাস: ৮টিরও বেশি যুদ্ধ বন্ধ করার পরও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আমি আর কেবল শান্তি নিয়েই ভাবার বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না। যদিও শান্তি সবসময়ই প্রাধান্য পাবে, তবে এখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো ও সঠিক, সেটিই ভাবছি।

চিঠিতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ টেনে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। 

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছাড়া গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। 

তার ভাষায়, ডেনমার্ক এই ভূখণ্ডকে রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তাহলে তাদের মালিকানার অধিকার কেন থাকবে? গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরে রোববার চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি তার পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত বার্তার জবাবে এসেছে। 

ওই বার্তাটি তিনি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠিয়েছিলেন, যেখানে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক আরোপের বিরোধিতা জানানো হয় এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে স্টোর বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ের সরকার নয়, একটি স্বাধীন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি প্রদান করে। 

তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকার এ সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা রাখে না। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্র ‘যে কোনো উপায়ে’ নিয়ন্ত্রণে নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, এখনই সময় এবং এটি করে ফেলা হবেই।

আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ৮ দেশের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ

এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দেওয়া হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা জুন নাগাদ ২৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকরা রোববার জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পাল্টা শুল্ক আরোপ ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

চিঠিতে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের মালিকানার পক্ষে কোনো শক্ত লিখিত দলিল নেই। 

তার ভাষায়, কয়েকশ বছর আগে একটি নৌকা সেখানে ভিড়েছিল—এটুকুই ইতিহাস। আমাদের নৌকাও তো সেখানে ভিড়েছিল। 

তিনি আরও বলেন, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্য যে কারও তুলনায় তিনি এই জোটের জন্য বেশি কাজ করেছেন এবং এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু করা।

গ্রিনল্যান্ড একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ দ্বীপ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্তকরণসহ আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ডেনমার্ক ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় দ্বীপটি এই দুই সংস্থার নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় রয়েছে। তবুও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা নাকচ করেননি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো জোটে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণেরই রয়েছে। 

তিনি মিত্রদেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্বের জন্য নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত এই পুরস্কার পাননি তিনি। নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে।

মারিয়া কোরিনা মাচাদো পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন এবং গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে গিয়ে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। 

তবে নোবেল ফাউন্ডেশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পদক হস্তান্তর হলেও পুরস্কারের স্বীকৃতি প্রকৃত বিজয়ীর কাছেই থেকে যায়।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, সিবিএস নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, আনাদোলু এজেন্সি

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়