রাশিয়ার তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) অনলাইনে প্রকাশিত এক চিঠিতে জানিয়েছে, জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা থাকায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এরই মধ্যে কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এরপরই ৩০ দিনের এই লাইসেন্স জারি করা হয়।
এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই রাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের হুমকি মোকাবিলাতেও এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদি এবং এতে রাশিয়ার সরকারের জন্য বড় কোনো আর্থিক সুবিধা তৈরি হবে না।
আরও পড়ুন: ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নিতে দ্বিধা করবে না ইরান: মুজতাবা খামেনির
তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের জন্য বীমা ও আর্থিক সহায়তা দিতে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থ করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে মার্কিন নৌবাহিনী।
দাম কমাতে ‘জোন্স অ্যাক্ট’-এর কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়ও ভাবা হচ্ছে। এতে বিদেশি জাহাজ সহজে মার্কিন বন্দর ব্যবহার করে তেল ও কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








