News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ৯ মার্চ ২০২৬

মোজতবা খামেনিকে ‘নিঃশর্ত ও অব্যাহত’ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুতিনের

মোজতবা খামেনিকে ‘নিঃশর্ত ও অব্যাহত’ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুতিনের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। তার এই অভিষেকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং তেহরানের প্রতি ক্রেমলিনের ‘নিঃশর্ত ও অব্যাহত’ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সোমবার (০৯ মার্চ) ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় পুতিন ইরানকে রাশিয়ার অন্যতম বিশ্বস্ত ‘বন্ধু দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্ব তার সুযোগ্য পূর্বসূরির নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে ইরানকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাবেন।

রুশ সংবাদমাধ্যম এবং ক্রেমলিনের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, ভ্লাদিমির পুতিন তার বার্তায় ইরানের বর্তমান সংকটকালীন সময়ে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। 

তিনি বলেন, ইরানের বন্ধুদের সঙ্গে সংহতি বজায় রাখতে রাশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে নিঃস্বর্তভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে পুতিনের এই সরাসরি সমর্থন তেহরান-মস্কো সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ উচ্চতায় নিয়ে গেল। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের ‘লাইফলাইন’ ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট

সোমবার (০৯ মার্চ) ভোরে ইরানের অত্যন্ত প্রভাবশালী ধর্মীয় ও সাংবিধানিক সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) এক জরুরি অধিবেশনে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনিকে ইসলামী বিপ্লবের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। 

সংস্থাটি জানায়, দেশের বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মোজতবা খামেনিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি তার পিতা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

মেহের নিউজ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। রাশিয়ার পাশাপাশি বেইজিং এবং আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোও নতুন নেতাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টিকে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতার অধীনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক কৌশল কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান আরও বেশি কঠোর ও আত্মপ্রত্যয়ী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়