আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৭, ২১ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৮:১০, ২১ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ‘সম্ভাব্য’ সফর নিয়ে দিল্লির বিবৃতি, এক ঘণ্টায় প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রীর ‘সম্ভাব্য’ সফর নিয়ে দিল্লির বিবৃতি, এক ঘণ্টায় প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এই ঘটনাটিকে একটি অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ওয়েবসাইট এবং দেশটির প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। 

এই শনিবার কোনো চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান থাকছে না শিরোনামের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, আগামী ২২ আগস্ট (শনিবার) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে নিয়মিত চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও মহড়া (ফুল ড্রেস রিহার্সাল) অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম বা সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো একে এই হাই-প্রোফাইল সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছিল। কিন্তু এর মাত্র আধা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই বেলা তিনটার দিকে রাষ্ট্রপতি ভবন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই পূর্বের সেই বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং নতুন আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা বাতিল ঘোষণা করে।

এর আগে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চলা আলোচনার ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, চলতি আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে সম্পর্কে খানিকটা শীতলতা ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় দিল্লি

বিশেষ করে, গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, ক্ষমতাচ্যুত ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট গণমাধ্যমে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে সফর ঘিরে চলমান আলোচনা কিছুটা জটিল আকার ধারণ করেছে। ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করে তার এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছে ঢাকা।

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ভারতের কাছে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এর অংশ হিসেবে ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) এবং অন্যান্য অভিযুক্ত আসামিদের হস্তান্তরের দাবি জোরালো করা হয়েছে।

দ্য প্রিন্টসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণের আবেদনটি তাদের আইনি ও বিচারিক কাঠামোর অধীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নয়াদিল্লি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ আতিথেয়তা প্রদান ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে আগ্রহী হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের এই তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও তা আবার প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনাটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি ও কৌশলগত দোলাচলেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই বিষয়ে ঢাকা বা দিল্লির আনুষ্ঠানিক কোনো উচ্চপর্যায়ের মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়