নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৯, ৩ জুন ২০২৬

রেকর্ড রেমিট্যান্সে দেশের রিজার্ভে স্বস্তির হাওয়া

রেকর্ড রেমিট্যান্সে দেশের রিজার্ভে স্বস্তির হাওয়া

ফাইল ছবি

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা সঞ্চয়ে ধারাবাহিক উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) রেকর্ড প্রবাহের ওপর ভর করে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রায় ৩৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামষ্টিক অর্থনীতির এই ইতিবাচক অগ্রগতির হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বুধবার (০৩ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে দেশের সর্বশেষ রিজার্ভ পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সূচকগুলো প্রকাশ করেন। 

তিনি জানান, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে আসার কারণেই মূলত রিজার্ভের এই ধারাবাহিক ও শক্তিশালী উত্থান সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮২১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সাধারণ বা প্রচলিত হিসাবে ৩৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ (ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল) পরিমাপ অনুযায়ী দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৬০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ৩০ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার)। দেশীয় মুদ্রায় যার আর্থিক মূল্যমান প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে রিজার্ভের এই লাফিয়ে বাড়ার চিত্রটি অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ এর আগে গত ১ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪,৭৬৬ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ছিল ৩০,১০৭ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ ভিত্তিক রিজার্ভ বেড়েছে ৫২ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার

আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট ও নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের নানা সমীকরণের মাঝে এই প্রবৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য এক বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রস রিজার্ভের মধ্যে মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা সব ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা ও তরল সম্পদ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে সহজে ব্যবহারযোগ্য বা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত করা যায় না এমন কিছু অভ্যন্তরীণ ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভ হিসাব করা হয়। মূলত মোট রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি আন্তর্জাতিক দায় ও ঋণ বিয়োগ করেই এই প্রকৃত নিট রিজার্ভ গণনা করা হয়ে থাকে। বর্তমানে দেশের আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়নে এই বিপিএম-৬ ভিত্তিক রিজার্ভকেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ এখন ৩০ বিলিয়নেরও বেশি মজুত ধরে রেখে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি আয়ের এই ইতিবাচক ও বেগবান ধারা যদি আগামী দিনগুলোতেও বজায় থাকে, তবে দেশের সামগ্রিক নিট রিজার্ভের পরিমাণ আরও সুসংহত অবস্থানে পৌঁছাবে। বিশেষ করে ডলার সংকটের কারণে বিগত দিনগুলোতে আমদানি ব্যয় মেটাতে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ফলে তা অনেকটাই কেটে যাবে এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতায় দেশের রেটিং আরও উন্নত হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়