News Bangladesh

ব্যবসা-বাণিজ্য ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ১১ মার্চ ২০২৬

চলতি মাসেই দেশে আসছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল

চলতি মাসেই দেশে আসছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল

ফাইল ছবি

চলতি মার্চ মাসে দেশে যুক্ত হচ্ছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল। এতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ জ্বালানি সরবরাহ করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিকল্প দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি চালানে দুই লাখ ৮১ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল আসবে। বাকি প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া যাবে দেশের শোধনাগার ও পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে।

বর্তমানে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে। ‘এমটি নর্ডিক পলাঙ’ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে ১১টি চালানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। ইতিমধ্যে ৩ মার্চ ৩২ হাজার ১৬৯ দশমিক ০৭ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং জ্বালানি খালাস সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া সোমবার (৯ মার্চ) ২৭ হাজার ২০৪ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। সিঙ্গাপুর থেকে এসব ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।

শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। ১২ মার্চ ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি জাহাজ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১৩ মার্চ ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।

বিপিসি সূত্র আরও জানায়, ২৪ মার্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, ২৫ মার্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং ২৭ মার্চ আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, মার্চ মাসে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ পাওয়া যাবে।

চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশ আমদানিনির্ভর।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি সরবরাহ আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চাহিদা সমন্বয় করে জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইন সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঈদের ছুটির মধ্যে ব্যাংক খোলা রাখা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা অধিকাংশ জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়