যৌথ হামলায় আইআরজিসি মুখপাত্র জেনারেল নাঈনি নিহত
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের ওপর জোরালো সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে দেশ দুটির এক যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাবশালী মুখপাত্র এবং জনসংযোগ উপমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসি এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিসহ আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, হামলা ভোররাতে চালানো হয়। একই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সিও নায়িনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডকে “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা নিহতের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
৬৮ বছর বয়সী জেনারেল নায়িনির জন্মস্থান কাশান শহর। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি আইআরজিসির মুখপাত্র নিযুক্ত হন এবং শেষ দুই বছর ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া তিনি আইআরজিসির দ্বিতীয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ছিলেন।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে এক জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার টোল আদায় ইরানের
নিহতের মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে নায়িনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলার মধ্যেও তেহরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম। আমাদের অস্ত্রশক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং শত্রুর জন্য চমক রয়েছে। যুদ্ধ যত এগোবে, তা আরও জটিল ও তীব্র হবে। তবে এই বক্তব্য দেওয়ার আগে নাকি তিনি নিহত হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ইরানের ওপর চলমান হামলায় ইতিমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং নিরাপত্তাপ্রধান আলি লারিজানিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি এবং গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী এসমাইল খাতিবও নিহত তালিকায় রয়েছেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় তেহরান, কারাজ, কেরমান, কাশান এবং বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইআরজিসি মুখপাত্রের নিহত হওয়া শুধু সামরিক না, বরং প্রচার ও মনোবলগত দিক থেকেও বড় আঘাত। কারণ এই পদটি ইরানের সামরিক অবস্থান ও বার্তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উভয় পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরানও আঞ্চলিক মার্কিন ও মিত্র ঘাঁটি এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, তাসনিম নিউজ এজেন্সি, মেহর নিউজ এজেন্সি
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








