News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ২০ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে এক জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার টোল আদায় ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে এক জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার টোল আদায় ইরানের

ফাইল ছবি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে আকস্মিক নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও টোল পদ্ধতি কার্যকর করেছে ইরান। তেহরানের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেওয়ার পাশাপাশি গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের মাশুল।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নতুন ‘যাচাইকরণ ও নিবন্ধন’ পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় যেকোনো জাহাজকে ওই জলসীমা অতিক্রম করার আগে তেহরানের কাছে বিস্তারিত তথ্য জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। 

মূলত জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তি দিলেও সামুদ্রিক বিশ্লেষণ সংস্থাগুলোর মতে, ইরান এই পথে এক ধরনের ‘নির্বাচিত অবরোধ’ আরোপ করেছে। এর ফলে জাহাজগুলোকে আগে থেকেই নিবন্ধন করে নির্ধারিত করিডোর ব্যবহারের অনুমতি নিতে হচ্ছে।

সামুদ্রিক তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট’ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া ও চীনের মতো নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে বিশেষ বিবেচনায় চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে। তবে এই সুযোগ পেতে জাহাজগুলোকে গুণতে হচ্ছে চড়া মাশুল। 

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের

লয়েডস লিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৯টি জাহাজ ইরানের লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে নির্ধারিত করিডোর ব্যবহার করেছে। তথ্য পাওয়া গেছে যে, সম্প্রতি একটি ট্যাঙ্কার এই পথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি পেতে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা) টোল পরিশোধ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন শর্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বীমা খরচ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পণ্যের গন্তব্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা জাহাজ মালিকদের জন্য নতুন আইনি ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। 

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স মিলস বলেন, এই পদ্ধতি স্বল্পমেয়াদে কার্যকর মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বড় বাধার মুখে পড়বে। 

তিনি সতর্ক করে জানান, ইরানি জলসীমা ব্যবহার, বন্দরে ভেড়া এবং গন্তব্য প্রকাশের শর্তগুলো জাহাজগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে, যা চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের মধ্যে একটি কঠিন বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই একক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। সমুদ্রপথে চলাচলের এই নতুন প্রতিবন্ধকতা কেবল খরচই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা চুক্তির ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, যদি এই প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে অস্থিরতা আরও তীব্র হবে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ওপর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়