মার্কিন হামলার দায়ে আমিরাতের কাছে ইরানের বিশাল ক্ষতিপূরণ দাবি
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে এবার প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির ওপর মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় আমিরাতের ভূখণ্ড ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে আবু ধাবির কাছে বিশাল অংকের আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই দাবি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘নূর নিউজ’ চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি অভিযোগ করেছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং সামরিক অবকাঠামো মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অন্যায় কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আমিরাতের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি এবং জনগণের ওপর যে মানসিক ও নৈতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার আমিরাতকেই বহন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ইরানের ওপর বিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে গেছে: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ভয়াবহ হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা শুরু হয়।
ইরান শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিল যে, যেসব দেশ শত্রুপক্ষকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তারা সরাসরি তেহরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এর ধারাবাহিকতায় গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার প্রধান শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে আমিরাত একটি ‘আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ’ করেছে, যার জন্য দেশটিকে বিশ্ব দরবারে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরান দাবি করেছে, এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সকল বস্তুগত ক্ষতি এবং জনগণের ওপর দীর্ঘমেয়াদী মানসিক প্রভাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ প্রদান আমিরাতের আন্তর্জাতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এখন পর্যন্ত এই চিঠির বিষয়ে জাতিসংঘ বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরানের এই ক্ষতিপূরণ দাবির ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখন এক নজিরবিহীন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








