News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ১৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেতে ১৮ লাখ টাকা জামানত বাধ্যতামূলক

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেতে ১৮ লাখ টাকা জামানত বাধ্যতামূলক

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এখন থেকে বিশ্বের নির্দিষ্ট ৫০টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা) জামানত বা 'ভিসা বন্ড' জমা দিতে হবে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই উদ্যোগের আওতায় ব্যবসা (বি-১) এবং পর্যটন (বি-২) ভিসার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী ২ এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত ভিসা বন্ড কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকেই বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই বন্ড প্রক্রিয়া চালু ছিল। তবে এবার সেই তালিকায় নতুন করে আরও ১২টি দেশকে যুক্ত করে মোট সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয়েছে। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশগুলো হলো কম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া, জর্জিয়া, গ্রেনাডা, লেসোথো, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া, পাপুয়া নিউগিনি, সেশেলস ও তিউনিসিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল ও ভুটান আগে থেকেই এই তালিকায় অবস্থান করছে। এছাড়া আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার বেশ কিছু দেশও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য সন্তান জন্মদান ও চাকরি নিষিদ্ধ

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই কড়াকড়ির মূল লক্ষ্য হলো 'ভিসা ওভারস্টে' বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ঠেকানো। পরিসংখ্যান বলছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থানের প্রবণতা বেশি থাকায় এই কঠোর আর্থিক সুরক্ষা কবচ গ্রহণ করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট দাবি করেছে, এই ব্যবস্থার ফলে ইতিমধ্যে অবৈধভাবে অবস্থান করার হার আগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

নতুন এই নিয়মে পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়লেও, যারা আইন মেনে চলবেন তাদের ভয়ের কিছু নেই বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ভ্রমণকারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিজ দেশে ফিরে যান কিংবা কোনো কারণে নির্ধারিত ভ্রমণ বাতিল করেন, তবে জমা দেওয়া পূর্ণ ১৫ হাজার ডলার তাকে ফেরত দেওয়া হবে। মূলত বন্ডের শর্ত মেনে যথাযথ সময়ে প্রস্থান নিশ্চিত করাই এই জামানতের প্রধান উদ্দেশ্য।

পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নীতিটি কেবল নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির (বি-১ ও বি-২) আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়