News Bangladesh

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৯, ৩ মার্চ ২০২৬

প্রাণীর ভাষা অনুবাদের অ্যালগরিদম আবিষ্কার করে গিনেসে মনোনীত নাহিদ

প্রাণীর ভাষা অনুবাদের অ্যালগরিদম আবিষ্কার করে গিনেসে মনোনীত নাহিদ

নাহিদ আলম। ছবি: সংগৃহীত

বোবা প্রাণীর মনের না বলা কথাগুলো যদি মানুষের ভাষায় প্রকাশ পেত, তবে কেমন হতো? কল্পবিজ্ঞানের এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বিশ্বজুড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন রাজশাহীর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ আলম। 

কুকুরের মস্তিষ্কপ্রসূত সংকেত বা ‘ভাষা’ মানুষের বোধগম্য শব্দে রূপান্তর করার এক বিশেষ অ্যালগরিদম আবিষ্কার করেছেন তিনি। এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ নাহিদ আলম এখন বিশ্বখ্যাত ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য দ্রুতই সিঙ্গাপুর পাড়ি দিচ্ছেন।

নাহিদ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা তিন বছর চার মাস ধরে ছয় সদস্যের একটি গবেষক দল এ প্রকল্পে কাজ করেছে। দলের নেতৃত্ব দেন তিনি নিজেই। গবেষণার ফলাফল হিসেবে তারা যে প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছেন, তার নাম “ডি-ব্রিজ”- যাকে তিনি বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত বায়ো-ইনফরমেটিক্সভিত্তিক সফটওয়্যার হিসেবে দাবি করছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাকশক্তিহীন প্রাণীর স্নায়ু-উৎপন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে তাদের শারীরিক অনুভূতি ও মানসিক অভিপ্রায়কে মানুষের বোধগম্য ভাষায় অনুবাদ করা।

উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি তিন ধাপে কাজ করে বলে গবেষক দল জানিয়েছে। প্রথম ধাপে প্রাণীর শরীরে সংযুক্ত গ্রাফিন-ভিত্তিক ন্যানো-সেন্সর স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্গত সূক্ষ্ম জৈব-ফ্রিকোয়েন্সি বা নিউরাল সংকেত সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় ধাপে বিশেষ নকশার ফ্র্যাক্টাল অ্যান্টেনা সেই সংকেত গ্রহণ করে কম্পিউটারে সংরক্ষিত মূল প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় পাঠায়। সর্বশেষ ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম জটিল তরঙ্গ-প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের ভাষায় রূপান্তর করে। 

আরও পড়ুন: ৩০ হাজার সার্ভারে চলছে ফেসবুক

উদাহরণ হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ‘আমি অসুস্থ’ কিংবা ‘আমার ক্ষুধা লেগেছে’ ধরনের বার্তা অনুবাদ করা সম্ভব হয়। 

নাহিদের দাবি, এটি প্রাণীর স্বর বা ডাক বিশ্লেষণ নয়; বরং সরাসরি মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও অভিপ্রায় বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থ নির্ধারণের প্রচেষ্টা।

উদ্ভাবনের প্রেরণা সম্পর্কে তিনি জানান, টেলিফোনের জনক আলেকজান্দার গ্রাহাম বেলের জীবনী তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। মানবযোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনা সেই আবিষ্কারের গল্প থেকেই নতুন কিছু সৃষ্টির প্রত্যয় জন্ম নেয় তার মধ্যে। দীর্ঘ গবেষণা, পরীক্ষানিরীক্ষা ও তথ্যসংগ্রহের পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের দাবি করেন তিনি।

নাহিদ আলমের একাডেমিক ও গবেষণা অর্জনের তালিকাও উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বিজ্ঞানমেলায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। একই বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ক্লাউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক হিসেবে দূরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেন।

নিজের এ সাফল্যের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন নাহিদ। তার ভাষায়, প্রাতিষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা ও গবেষণায় সহায়তাই তাকে জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহস জুগিয়েছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পরই এ উদ্ভাবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলবে। তবে প্রাথমিক মনোনয়নই রাজশাহী তথা দেশের প্রযুক্তিখাতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়